ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

শেরপুরে জামায়াত নেতার দাফন, সেনা টহল জোরদার

শেরপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬  
শেরপুরে জামায়াত নেতার দাফন, সেনা টহল জোরদার

শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে মাওলানা রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের (৪২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তার লাশ শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে আনা হয়। সেখানে তার প্রথম জানাজা শেষে দ্বিতীয় জানাজার জন্য লাশ গ্রামের বাড়ি গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

আরো পড়ুন:

রেজাউল করিমের জানাজা উপলক্ষে শ্রীবরদী প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। জানাজার স্থান ও আশপাশে চার প্লাটুন বিজিবি ও সেনাসদস্যরা টহল দেয়।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকে। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে আসার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষে আহত রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবন‌তি হ‌লে উন্নত চি‌কিৎসার জন্য ময়মন‌সিংহ মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে নেওয়ার প‌থে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যায়।

সরেজমিন নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রেজাউলের মা বেঁচে নেই। তার বয়োবৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক দৃষ্টিতে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেন তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। বাড়ির ভেতর থেকে নারীদের উচ্চস্বরে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছিল। আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাড়িতে এসে খোঁজ-খবর নিচ্ছিলেন। 

রেজাউলের বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে আসেন জেলা জামায়তের আমির হাফিজুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘‘এই হত্যার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যেহেতু এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ আছে। তাই আমরা ভিডিও দেখে হত্যা মামলা দায়ের করব। প্রাথমিকভাবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শ নিয়ে কর্মসূচি নেওয়া হবে।’’ 

নিহত রেজাউল করিমের শ্বশুর হাফেজ মো. আবুবকর বলেন, ‘‘আমি হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই। উনার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এখন দেখবে কে?’’ রেজাউলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলেন, ‘‘সুষ্ঠু বিচার চাই। জড়িতদের ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেপ্তার চাই।’’ 

শেরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির  অবনতি যেন না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত সেনাসদস্যদের রাস্তায় টহল জোরদার করতে দেখা গেছে। মূল সংঘর্ষস্থল ঝিনাইগাতী ও তার আশপাশের অবস্থা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ঝিনাইগাতী বাজার এলাকায় শুনশান নীরবতা নেমে এসেছে। ঝিনাইগাতী বাজারে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

জানাজায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী। এ সময় শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সহ জেলা ও উপজেলায় নেতারা বক্তব্য রাখেন। জানাজা নামাজে কলেজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

জানাজার আগে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, যার কারণেই শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের মতো একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে এমন সহিংসতা হয়েছে।’’ এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘‘এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা রজু করা হয়নি। তবে, পুলিশ তদন্ত অগ্রগতি করে রেখেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’’ 

জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।’’ 

ঢাকা/তারিকুল/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়