রিজভীর অভিযোগ
ভোটের রাজনীতিতে অশালীন ভাষার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, “ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তারা অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “আজ ভোটের রাজনীতিতে আমরা এক ভয়ংকর প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। একেকজন একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, উদ্দেশ্য একটাই- প্রতিপক্ষকে আঘাত করা। এমন কোনো নোংরা শব্দ নেই, যা তারা ব্যবহার করছেন না।” তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ভাষা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নাহিন ইসলামকে পাঠানো একটি হুমকিমূলক চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রিজভীর দাবি, “চিঠিটির ভাষা ও ধরন জঙ্গি গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের হুমকি পত্রের মতো।” চিঠিতে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, “একজন সম্মানিত শিক্ষক ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে এভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আঘাত। নারীর অগ্রগতি ও স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।”
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী খাদিজাতুল্লাহর নিপীড়নের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়। রিজভীর অভিযোগ, “ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাকে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।”
ডিজিটাল ও সাইবার বুলিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যা মানসিক নির্যাতনের শামিল।”
রিজভী জানান, বিএনপি মানবতা, গণতন্ত্র ও নারীর পরিপূর্ণ মুক্তিতে বিশ্বাস করে। তিনি বেগম রোকেয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “জাতীয়তাবাদী রাজনীতি নারী জাগরণের পক্ষেই অবস্থান নেয়।”
ঢাকা/আলী/মাসুদ