বাংলাদেশকে অমিত শাহ: আপনাদের বাবার জমি নাকি
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
চিকেন নেক করিডোর দখল নিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করার ‘আওয়াজ’ উঠেছিল বাংলাদেশে। এবার সেই চিকেন নেক করিডোর খ্যাত শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলাদেশের নাম না নিয়ে শাহ বলেছেন , “আপনাদের বাবার জমি নাকি? এটা ভারতের জমি, কেউ হাত লাগাতে পারবে না। এই করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। এই এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা হলে ভারত কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।”
শনিবার উত্তর ২৪পরগনা জেলার দমদম ও দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে কর্মিসভা ছিল অমিত শাহের।
তিনি বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে চিকেন নেক এলাকায় একাধিক নিরাপত্তা মহড়া চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন তিস্তা প্রহার’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে, যার মাধ্যমে এই করিডোরের নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে।
‘চিকেন নেক’ এলাকাটি নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীনের কাছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের লালমনিরহাটে পুরনো বিমানঘাঁটি চালু করার খবর মিলেছে। সেখানেও চীনের প্রযুক্তিগত সাহায্যের অনুমতি মিলেছে। এরপরই শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি বর্তমানে পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অর্থাৎ বিমানঘাঁটিগুলো চালু করতে তৎপর হয়েছে ভারত। আধুনিক অস্ত্রও সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে আনা হয়েছে। বিমানের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত সুরক্ষা করতে ব্যর্থ অভিযোগ এনে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষিত করবে। শুধুমাত্র রাজ্যের জন্য নয়, এটি সমগ্র দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ হওয়া উচিত কিনা এমন প্রশ্ন কর্মী সমর্থকদের কাছে জিজ্ঞেস করে অমিত শাহ বলেন, “হাইকোর্টের রায়ের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করছে না। সীমান্তের দুর্গম স্থান থেকে অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করছে এবং আপনার পুলিশ প্রশাসন তাদের আটকাচ্ছে না। উল্টো ভারতীয় হওয়ার নথিপত্র গোটা ভারতবর্ষজুড়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।”
সুচরিতা/শাহেদ