শূন্য ঘোষণার পর বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে কৌতূহল
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে আলোচনায় থাকা বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপ-নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘুরছে রাজনৈতিক বৈঠক থেকে শুরু করে চায়ের দোকানেও। চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা এবং নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের অপেক্ষায় এখন পুরো জেলার রাজনৈতিক মহল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে এই সংসদীয় আসনে হবে উপ-নির্বাচন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, আসনটি জিয়া পরিবারের কাউকে দেওয়া হতে পারে। আলোচনায় রয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।
এ ছাড়া, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
আসনটির নির্বাচনি ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম।
২০১৮ সালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হলেও শপথ নেননি। পরে উপ-নির্বাচনে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজ জয়ী হন। দলীয় সিদ্ধান্তে তার পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত আরেক উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন এবং ২০২৪ সালেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন বগুড়া-৬ আসন থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেসব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আসনটি দলটির দখলেই থেকেছে। এ কারণেই বগুড়া-৬ আসনকে বিএনপির ‘ঘরের আসন’ বা শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ভোটের আগে সবাই আসে, পরে আর দেখা যায় না। এবার এমন কাউকে চাই, যিনি সবসময় এলাকায় থাকবেন।”
কলেজ ছাত্র রাকিব ইসলাম বলেন, “শুধু বড় নাম হলেই হবে না, কাজের মানুষ দরকার। তরুণদের চাকরি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করবেন এমন প্রার্থী চাই। বগুড়ায় যেন শিক্ষিত কেউ বেকার না থাকে।”
মোজাফফর হোসেনের মতে, “এখন যেহেতু বিএনপি ক্ষমতায়, তাই এমন একজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন যিনি উন্নয়ন প্রকল্প আনতে সক্ষম হবেন। বগুড়া দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এখন অনেক কাজ করতে হবে।”
নারী ভোটার জাহানারা বেগম বলেন, “হাসপাতাল, স্কুল, নিরাপত্তা এসব নিয়ে কাজ করবেন এমন সংসদ সদস্য চাই। শুধু রাজনীতি করলে হবে না।”
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন জানান, দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই তারা মেনে নেবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, “দল নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনাধীন। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ঢাকা/এনাম/মাসুদ