ঢাকা     বুধবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২ || ৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে সূর্যমুখী চাষ, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৯:১২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিরাজগঞ্জে বাড়ছে সূর্যমুখী চাষ, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিনির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জে দিন দিন বেড়ে চলেছে সূর্যমুখীর চাষ। কম খরচে ভালো লাভ ও ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনা দেখায় কৃষকরা এখন এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষির চিত্রও বদলাচ্ছে।

ফুলের উজ্জ্বল সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন সূর্যমুখী মাঠে।

আরো পড়ুন:

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব, হেক্টর প্রতি ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। অনাবাদি বা ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে নদীভাঙন ও বালুময় চরাঞ্চলে ফসলটি ভালো ফলন দিচ্ছে।

সদর, কাজীপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ সূর্যমুখীর সমারোহ, যা দর্শনার্থী ও কৃষক দুইয়ের মুখে আনন্দ নিয়ে এসেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘায় তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। রোগবালাই কম এবং সেচের প্রয়োজন সীমিত। বাজারে সূর্যমুখীর তেলের চাহিদা বেশি হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

সূর্যমুখী মাঠে সেলফি তুলতে আসা স্বপ্না পারভীন ও ভাবলী খাতুন বলেন, “হলুদ ফুল আর নীল আকাশের মিলনে তৈরি দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। এখানে সময় কাটানো প্রশান্তির, আর সারি সারি ফুলের সঙ্গে ছবি তোলা ভিন্ন রকম আনন্দ দেয়।”

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণী চরের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, “যমুনার চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমি পতিত থাকে। এবার ৪ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, লাভ আশা ১০–১২ হাজার টাকা।”

বহুলী ইউনিয়নের ধীতপুর আলাল গ্রামের আলী আকবর বলেন, “গত দুই বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। এবারও ১ বিঘা জমি ফুলে ভরে গেছে। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের আশা করছি।”

কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, “ধান, গম ও ভুট্টার তুলনায় সূর্যমুখী ফুলে বেশি লাভ হয়। ভবিষ্যতেও এই চাষ চালিয়ে যাব।”

চৌহালী উপজেলার ওমরপুর চরের আলতাফ হোসেন জানান, “মূলত তেল উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখী চাষ করছি। প্রতি বিঘায় ৮–৯ মণ বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল তৈরি সম্ভব। প্রতি বিঘায় খরচ সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা, অথচ লভ্যাংশ ১৪০–২০০ লিটার তেল থেকে বেশি।”

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন বলেন, “সদরে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখীর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। চরাঞ্চলে চাষের পরিমাণ বেশি, এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।”

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা বলেন, “জেলার জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ২৮০ হেক্টর, যা থেকে ২৭০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। সূর্যমুখীর বীজ ও তেল উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এতে কৃষকরা স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগোচ্ছেন।”

ঢাকা/রাসেল/জান্নাত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়