ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৬, ২ মার্চ ২০২৬  
কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা

এন আলম।

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পের আগুনের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর।

রবিবার (১ মার্চ) রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন।

আরো পড়ুন:

ওসি ছমি উদ্দিন জানান, গ্যাস পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন আলম কে একমাত্র আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আসামিকে গ্রেপ্তারসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্যাস পাম্প করার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইন্সেন নেননি মালিক এন আলম। যা বিস্ফোরণ আইনে অপরাধ।

এজাহারে একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।

বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।

আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শাহিদুল আলম। কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। 

এর মধ্যে রবিবার (১ মার্চ) দুপুর আড়াই টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু তাহের মারা যায়। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।

আবু তাহেরের লাশ এখনো কক্সবাজার পৌঁছেনি। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (২ মার্চ) বিকালে ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে স্বজনরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানান, লাশ কক্সবাজারে আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা/তারেকুর/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়