রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা
পাশাপাশি কবরে এক পরিবারের ৯ জন
বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে, মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নিহতদের স্বজনসহ কয়েক হাজার মানুষ। ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
জানাজার পূর্বে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।”
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দের গল্পধারা থাকার কথা ছিল, সেখানে আজ বিশাদের কালো ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেলা সোয়া ৩টায় শুরু হয় দাফন প্রক্রিয়া। প্রথমে দাফন দেওয়া হয় সাব্বিরের বাবা আ. রাজ্জাককে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকিদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে, সকালে পৌর কবরস্থানে একই পরিবারের ৯ সদস্যের জন্য পাশাপাশি কবর খোঁড়া হয়।
ফিরোজ শিকদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। গতকালের দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি-নাতনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে জীবিত আছেন তার তিন ছেলে ও তাদের মা।”
স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন ভাগ্নে সব হারিয়েছি।”
গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে কয়রা থেকে মোংলা ফিরছিলেন। মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক দিয়ে আসা একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন নিহত হন।
নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।
এর মধ্যে, শুক্রবার সকালে খুলনার কয়রায় কনের বাড়িতে ৪ জন ও বিকেলে বাগেরহাটের রামপালে মাইক্রোবাস চালকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা/আমিনুল/রাজীব