ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গৃহকর্তার স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস এভাবে ডাকাতির বিষয়ে জানাচ্ছিলেন।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় একটি বাড়িতে ডাকাত দল ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রামবাসী তাদের রুখে দেয়। এতে ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়ে ডাকাতরা যাওয়ার সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গেছে।
শনিবার ( ১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামে জীমুত বাহন বিশ্বাসের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। জীমুত বিশ্বাস কলিমহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
খোকসা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, তেমন কিছু হয়নি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিছু লোক ওই বাড়িতে ঢুকে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করছেন।
তিনি আরো বলেন, ওই বাড়ির পাশে কিছু লোক তাস খেলছিল। তারাও ডাকাতির ঘটনা জানে না। ওই বাড়ি লোক যা বলছে, ও রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ গৃহকর্তা ও শিক্ষক জীমুত বাহন বিশ্বাস নিজের ঘরে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আট জনের মুখ বাঁধা ডাকাত দল তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় গৃহকর্তার স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস চিৎকার দিলে ডাকাতরা তাকে কাপড় দিয়ে বাঁধার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতরা বাড়ির পেছনের মাঠ দিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা গৃহকর্তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে গৃহকর্তার ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জীমুত বাহন বিশ্বাস জানান, আট ডাকাত ঘরে ঢোকে। তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজন ডাকাতের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অস্ত্রের মুখে ডাকাতরা পরিবারের লোকদের এক ঘরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তাদের চিৎকারে কালীমন্দির এলাকার দোকানে বসা গ্রামবাসী এগিয়ে এলে কয়েক মিনিটের মধ্যে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ডাকাতেরা যাওয়ার আগে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যায়। কোথায় টাকা পাঠাতে হবে তা ফোনে জানাবে বলে জানিয়ে গেছে।
জানিপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তাদের এলাকা ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল