ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকগামী পর্যটক নির্ভর, নেই প্রচারণা 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৪, ২৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৮:২৬, ২৩ মার্চ ২০২৬
খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকগামী পর্যটক নির্ভর, নেই প্রচারণা 

খাগড়াছড়িকে ‘পর্যটনের শহর’ বলা হলেও, পর্যটকদের অনেকে জানেন না জেলার অনেকগুলো পর্যটন স্পটের নাম। জেলার পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক আর রিচাং ঝরনা পরিচিত হলেও অন্যগুলোতে পর্যটকের আনাগোনা নেই বললেই চলে। পর্যটকেরা এই জেলা দিয়ে সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াত করেন। যদিও সাজেক ভ্যালির অবস্থান রাঙামাটি জেলায়। ফলে তাদের কাছে খাগড়াছড়ির অন্যান্য পর্যটন স্পট অজানাই রয়ে যায়। 

খাগড়াছড়ি শহরের অদূরে হাতিমাথা পাহাড় ও দেবতা পুকুর নামে দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে এই দুটি স্পট অনেকেরই অজানা। পর্যটকদের কাছে এই দুটি জায়গা তুলে ধরার জন্য প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে এগুলোও হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট।

মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নে দেবতা পুকুরের অবস্থান। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এই জলাশয় সমুদ্রপৃষ্ট বা সমতল থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উপরে ৫ একরেরও বেশি জায়গা দখল করে আছে। স্থানীয়দের ভাষায় এর নাম মাতাই পুখিরী। জলাশয়টি কখন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল কেউ জানে না। তবে চৈত্র মাসের শেষ ও পহেলা বৈশাখে এখানে হাজার হাজার পুণ্যার্থী আসেন মানসকামনা পূরণের আশায়। এখানে যেতে হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে জীপ বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যেতে হবে। দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। গাড়ি থেকে নেমে পাহাড় চূড়ায় এই জলাশয় দেখতে হলে আপনাকে ১৪৮১ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে।   

অন্যদিকে হাতিমাথা পাহাড় যেটি দেখতে অবিকল হাতির মাথার মতো; এক সময় এখান দিয়েই বাজারে বা অফিস আদালতে আসা-যাওয়া করতেন মাটিরাঙ্গা গোমতির প্রায় ৭-৮ গ্রামের মানুষ। তাদের আসা-যাওয়ার দুঃখের কথা কোনো এক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের পর প্রায় ১৮ বছর আগে তৎকালীন সদর উপজেলা চেয়াম্যান চঞ্চুমণি চাকমা একটি সিঁড়ি করে দেন পাহাড়ে ওঠার জন্য। স্থানীয়রা এর নাম দেন স্বর্গের সিঁড়ি। তখন থেকেই এটি স্থানীয়দের কাছে পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যদিও শহর থেকে এই পাহাড়ে যেতে হলে পায়ে হাঁটা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। ফলে এখানে খুব বেশি পর্যটকের কোলাহল নেই। কিন্তু যারা সামর্থ্যবান, নিরিবিলি পাহাড় দেখতে চান, সেখানকার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে চান, তাদের জীবনযাপন জানতে চান তাদের জন্য হাতিমাথা হতে পারে অনন্য স্থান।

খাগড়াছড়িকে অনেকে বলেন রাঙ্গামাটির সাজেকনির্ভর পর্যটন শহর। অর্থাৎ সাজেক না হলে খাগড়াছড়িতে পর্যটক আসতেন না। কিন্তু খাগড়াছড়ির নিজস্ব সৌন্দর্য যদি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা যায় তাহলে এই ভুল ভাঙবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। 

কুমিল্লার মো. সোলায়মান ও মুন্সিগঞ্জের আলমগীর হোসেন জানান, তারা সাজেকে গেছেন দলবল নিয়ে। ফেরার পথে আলুটিলা পর্যটন ও জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ঘুরে দেখেছেন। আলুটিলা তাদের কাছে ভালো লাগলেও হর্টিকালচার পার্কে ঝুলন্ত সেতু বাদে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো কিছু নেই বলে জানান তারা। একই কথা বললেন ঢাকা থেকে আসা মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি পরিবার নিয়ে সাজেকে এক রাত থেকে খাগড়াছড়ি শহরে এসেছেন। আলুটিলা বাদে খাগড়াছড়ির আর কোনো পর্যটন স্পটের কথা তিনি জানেন না। ভেবেছিলেন পরিবার নিয়ে খাগড়াছড়িতে একরাত থাকবেন। কিন্তু খাগড়াছড়ি না থেকে তিনি রাঙ্গামাটি চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

খাগড়াছড়ির চাকমা ভাষা গবেষক ও লেখক আর্যমিত্র চাকমা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাতৃভাষা গবেষণায় জাতীয় পদকপ্রাপ্ত ভাষা গবেষক ও উন্নয়কর্মী মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলোর প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে পারে। জেলার সব পর্যটন স্পটের কথা মানুষ এখনো জানে না। সেখানে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। স্পটগুলোতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইডার, বিশ্রামাগার, টয়লেটসহ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়াও খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলোতে যদি সাজেকের মতো রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে মানুষ আকৃষ্ট হবে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়া ত্রিপুরা বলেন, আমার সময়ে হর্টিকালচার পার্কের কিড জোন ও ঝুলন্ত সেতু মেরামত, কায়াকিং বোট, প্যাডেল বোটসহ বিভিন্ন রাইড নিয়ে এসেছি পর্যটক ও স্থানীয়দের আকৃষ্ট করার জন্য। আরো কী করা যায় ভাবছি। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পর্যটন স্পট বাড়ানো ও স্পটগুলোর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য আমি জেলার মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে কথা বলব। 

খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ঘুরতে পারেন, তাদের সেবা দেওয়ার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুত থাকেন বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিশাত রায়। তিনি বলেন, সবসময় এখানে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ টহলে থাকে। পর্যটক যদি কোনো সমস্যায় পড়েন আমরা চেষ্টা করি দ্রুত সহযোগিতা করার। 

জেলায় নতুন পর্যটন স্পট গড়ে উঠলে, সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশে জনবল বাড়ানোর প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। 

ঢাকা/রূপায়ন//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়