ঢাকা     শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৫ ১৪৩২ || ৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের মরদেহ বাড়িতে, দুপুরে জানাজা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১২, ২৮ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১০:২১, ২৮ মার্চ ২০২৬
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের মরদেহ বাড়িতে, দুপুরে জানাজা

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করছেন পুলিশ সদস্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) তাদের মরদেহ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান স্বজনরা। তারা জানিয়েছেন, আজ জোহরের নামাজ শেষে নিহতদের দাফন করা হবে। 

এর আগে, ভোর ৪টার দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেকের পরিবারকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন:

আরো পড়ুন: তেল শেষ হয়ে যাওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন কালীহাতীতে নিহত পাঁচজন

নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা আক্তার (২৩)। তারা ঈদের ছুটি শেষে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গাইবান্ধার থেকে তাদের স্বজনরা একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় বাসটির তেল শেষ হয়ে যায়। রেল লাইনের পাশে বাস দাঁড় করিয়ে চালক ও হেলপার তেল আনতে যান। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসটি একই স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল। কয়েকজন বাস থেকে নেমে রেললাইনে বসে ছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। এসময় একটি ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বাসের যাত্রীরা বেশির ভাগই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন।

নিহত রিফা আক্তারের বড় ভাই আব্দুল মোমিন বলেন, “ভোর ৪টার দিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতরা সবাই আমার পরিবারের এবং আত্মীয়স্বজন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দিয়েছে। মরদেহগুলো নিয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি। আজ জোহরের নামাজের পর তাদের দাফন করা হবে।”

টাঙ্গাইল রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান বলেন, “গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসের তেল কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায়  শেষ হয়ে যায়। কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসেছিলেন। এ সময় টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের ট্রেন চলে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।”

তিনি বলেন, “আইনী পক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।”

ঢাকা/কাওছার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়