ঢাকা     শুক্রবার   ২৭ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৪ ১৪৩২ || ৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু 

পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো একই পরিবারের ৪ জন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৫, ২৭ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৬:১১, ২৭ মার্চ ২০২৬
পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো একই পরিবারের ৪ জন

রাজধানীতে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি কাটানো শেষে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামের শশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু, সেটাই হয়ে গেল শেষ যাত্রা। কর্মস্থলে ফেরা হলো না তার। বাড়িতে ফিরে গেলেন লাশ হয়ে; শুধু একজন নয়, চারজন। 

নিহতরা হলেন- আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭) ও মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং গাড়ির চালক জামাল হোসেন (৫২)। তবে, দুর্ঘটনায় আহত হলেও বেঁচে যান আব্দুল মমিনের ১২ বছরের ছেলে আবরার। 

আরো পড়ুন:

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে অ্যাম্বুলেন্সযোগে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়ি তিতারকান্দিতে। সকাল থেকে খোঁড়া হয় একে একে চারটি কবর। এদিন বাদ জুমা জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে চারজনকে শায়িত করা হয়েছে। 

একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে তিতারকান্দি এলাকাজুড়ে শোক বিরাজ করছে। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামের বাসিন্দারা। 

স্থানীয় চা দোকানি নুর হোসেন বলেন, “একই পরিবারের চারজনকে একসাথে কবর দেওয়া হবে, এমন ঘটনা আমার জীবনে এ প্রথম দেখলাম। এ শোক সওয়ার মতো নয়।”

‎নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার মিয়ামি হোটেলে যাত্রাবিরতি শেষে হাইওয়েতে ওঠার সাথে সাথেই বিপরীত দিক থেকে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস মুফতি আব্দুল মমিনের পরিবারের সদস্যদের বহনকারী প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারের চালকসহ পাঁচজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে থাকা ১২ বছর বয়সী ছেলে আবরারকে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে লক্ষ্মীপুরের চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে নানার বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। 

আবরার জানিয়েছে, সে গাড়ির বাম পাশে বসে ছিল। বাসের ধাক্কায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। জ্ঞান ফিরলে দেখতে পায়, একটি সিএনজি অটোরিকশায় পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত মরদেহ।

নিহত মুফতি আব্দুল মমিন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের ভগ্নিপতি।

ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, তার ভগ্নিপতি ‎আব্দুল মমিন ঢাকার জামেয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন। নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় আব্দুল মমিনের বাড়ি হলেও তিনি বিয়ের পর থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকতেন। বাড়ি করেছেন লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি এলাকায়। ঈদের ছুটিতে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সপরিবারে নিহত হন৷ তাদের বড় ছেলে হুজাইফা বাড়িতে ছিলেন। 

তিনি আরো জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তিতারকান্দির গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে চারজনকে দাফন করা হয়েছে।  

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নিহতদের বাড়িতে গেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। পরবর্তীতে বিআরটিএর মাধ্যমে আরো আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

ঢাকা/লিটন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়