ভালো ঘুম কেন জরুরি?
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মতোই অপরিহার্য। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
১. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
নিয়মিত কম ঘুম হলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪১% বেশি। ঘুমের অভাব শরীরে ঘ্রেলিন (ক্ষুধা বাড়ায়) হরমোনের মাত্রা বাড়ায় এবং লেপ্টিন (পেট ভরা অনুভূতি দেয়) হরমোন কমিয়ে দেয়। ফলে বেশি ক্ষুধা লাগে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পাশাপাশি, শক্তির অভাব পূরণ করতে বেশি চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়ে।
২. মনোযোগ ও কাজের দক্ষতা বাড়ায়
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, উৎপাদনশীলতা এবং কাজের পারফরম্যান্স কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সমস্যায় ভোগা চিকিৎসকদের ভুল করার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অন্যদিকে, ভালো ঘুম শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও পারফরম্যান্স উন্নত করে।
৩. শারীরিক পারফরম্যান্স উন্নত করে
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি—দ্রুত প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা বাড়ায়, পেশির শক্তি ও সহনশীলতা উন্নত করে এবং সূক্ষ্ম কাজ করার দক্ষতা বাড়ায় । অন্যদিকে, ঘুমের অভাব ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ায় এবং ব্যায়ামের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
৪. হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
কম ঘুম হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের হৃদ্রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৩% বেশি। এছাড়া, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ে, বিশেষ করে যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে।
৫. মানসিক অবস্থা ও সামাজিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে
ঘুমের অভাব আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে—সহজেই রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ পায়, অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা কমে এবং সামাজিক যোগাযোগে আগ্রহ কমে যায় । পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ইতিবাচক অনুভূতি ও সম্পর্ক গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মতোই ভালো ঘুম সুস্থ জীবনের অন্যতম স্তম্ভ। ব্যক্তিভেদে ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তবে অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম আদর্শ।তাই, সুস্থ থাকতে হলে এখনই আপনার দৈনন্দিন জীবনে ঘুমকে যথাযথ গুরুত্ব দিন।
সূত্র: হেলথলাইন
ঢাকা/লিপি