ছুটির দিনেও জ্বালানি সংকটে পাম্পে দীর্ঘ লাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। দেশে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ছুটরি দিনেও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আর যেগুলো খোলা রয়েছে সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর শাহবাগ, তেজগাঁও ও আসাদগেট এলাকার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায় জ্বালানি সংগ্রহে চালকদের দীর্ঘ সারি।
শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রেজা খান বলেন, “জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমাদের মতো বাইকারদের ওপর। অফিসে যাতায়াতের জন্য বাইকের ওপরই নির্ভর করি। আজ ছুটির দিনে সকাল আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তিন ঘণ্টা হয়ে গেল, এখনও তেল পাইনি। যেভাবেই হোক আজ তেল নিতে হবে, না হলে কাল অফিসে যেতে পারব না। এটা শুধু আমাদের দেশের সমস্যা না, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলছে, এমনটাও মনে হচ্ছে।”
তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত পাম্প, সেখানে সকাল থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ। তবুও পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন। তেল নিতে আসা রাশেদ খান বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, পরে এসে শুনি তেল নেই। সাধারণত ঢাকায় কোথাও না পেলেও এখানে পাওয়া যেত, আজ এখানেও নেই। সামনে কী হবে বুঝতে পারছি না। মানুষের তো একটা ধৈর্যের সীমা আছে। এভাবে কতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়?”
একই চিত্র দেখা যায় আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে অপেক্ষমাণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন বলেন, “কয়েকটা পাম্প ঘুরে দেখলাম, যেগুলোতে তেল আছে, সেখানে লম্বা লাইন। এখানে শুনলাম তেল দেবে, তাই দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনো চালু হয়নি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এদিকে, একই স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেল নিতে আসা আশরাফুল আলম বলেন, “তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি, এখনো তেল পাইনি। সামনে গিয়ে তেল থাকবে কি না সেটাও নিশ্চিত না। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
পাম্প কর্তৃপক্ষও পড়েছে চাপে। মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের কর্মচারী রবিউল হাসান বলেন, “অনেকে মনে করেন আমরা ইচ্ছা করে তেল দিচ্ছি না, কিন্তু আসলে আমাদের কাছেই সরবরাহ কম। সকাল থেকে না খেয়ে-দেয়ে ভিড় সামলাচ্ছি। তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করতে হয়, তখন মানুষের ক্ষোভ আমাদের ওপরই পড়ে। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। মানুষও অনেক বিরক্ত, প্রতিনিয়ত অভিযোগ শুনতে হচ্ছে।”
সার্বিকভাবে, জ্বালানি সংকট ঘিরে জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা/রায়হান/জান্নাত
ফেরি পারাপারে ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে কোনো বাস সরাসরি যাত্রীসহ ফেরিতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী