ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারানো ১০ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জ
মনোয়ার চৌধুরী, সুনামগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম
নৌকাডুবিতে নিহত সুনামগঞ্জের ১০ যুবক
স্বপ্ন ছিল ইউরোপে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর। সেই আশায় সুনামগঞ্জ থেকে যাত্রা করেছিলেন তারা। কিন্তু নির্মম বাস্তবতায় ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ে থেমে গেল সেই স্বপ্ন, গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী, এরমধ্যে সুনামগঞ্জেরই ১০ জন। তাদের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত ১০ জনের মধ্যে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলারই রয়েছেন পাঁচ যুবক। তারা হলেন উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের আকলিফ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), উপজেলার পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২২), উপজেলার ইছগাঁওয়ের বাছির হোসেনের ছেলে আলী হোসেন (২৫), ও বাউরি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে ইবাদত হক সুহানুর ( ২২ ) ।
দিরাই উপজেলার আছে চারজন। তারা হলেন, উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), একই গ্রামের মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান ( ২৫ ), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৮), উপজেলার রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪০)। রয়েছেন কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০)। এছাড়া, দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের তারেক (২২) নামের আরো একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে, একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণে বেচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবককে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “আমাদেরকে বড় বোটের কথা বলে ছোট বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে ৫ জন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। বাকি আমরা জীবিত আছি, আর মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুইদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সকলকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। লবণের পানিতে আমাদের অবস্থাও খারাপ।”
এদিকে, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পর দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার ফোকাল পারসন মুহাম্মাদ আমিনুল হক বলেন, “মানুষের স্বপ্ন ও দারিদ্র্যকে পুঁজি করে যারা মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে, সেই স্থানীয় দালালদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে এই অবৈধ মানবপাচার চক্র ভেঙে দিতে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি-যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন অসহনীয় শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।”
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) মো. শফিকুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ২২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মধ্যে জগন্নাথপুরের ৪ জন রয়েছে বলে জেনেছি। আমরা যাচাইবাছাই করে দেখব কতজন মারা গেছেন।”
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে এখন পর্যন্ত দিরাই থানাধীন এলাকার ৪ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ঢাকা/মনোয়ার/ইভা
নড়াইলে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় হত্যার অভিযোগ