ঢাকা     রোববার   ২৯ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৬ ১৪৩২ || ৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মানুষ কেন সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪০, ২৯ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৮:৪৬, ২৯ মার্চ ২০২৬
মানুষ কেন সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না?

ছবি: প্রতীকী

যেকোনো মানুষ যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেন। ধরুন, আপনি নতুন শহরে নতুন চাকরি নিতে যাচ্ছেন—এটা শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের একটি সম্ভাব্য উন্নত সংস্করণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। ‘যদি’ থেকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্তই আপনার জীবনের গল্পকে এগিয়ে নেয়।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো—গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নয়। কারণ মানুষেরা জীবনের সম্ভাবনাগুলোকে খুব সীমিত পরিসরে আটকে ফেলি, গুরুত্বপূর্ণ অনেক লক্ষ্যকে উপেক্ষা করি এবং সম্ভাব্য ফলাফলের সম্ভাবনা সঠিকভাবে আন্দাজ করতেও পারি না।

আরো পড়ুন:

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্যাথরিন ফক্স-গ্লাসম্যান বলেন, “মানুষ সাধারণত সম্ভাবনার তথ্য বোঝা ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মস্তিষ্ক অনেক কিছু বোঝার জন্য দারুণভাবে তৈরি—কিন্তু অনিশ্চয়তা বোঝার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষেরই দুর্বলতা রয়েছে। মানুষ বিভিন্নভাবে সম্ভাবনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে, বিকৃত করে, উপেক্ষা করে বা অপব্যবহার করে।”

ফক্স-গ্লাসম্যানের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তার ক্লাসে আসে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে শেখার আশায়। কিন্তু কোর্স শেষে তারা বলে—তারা সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। তবে তারা অন্তত নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতি বেশি সচেতন হয়েছে।

ফক্স-গ্লাসম্যান বলেন, “এটা অনেকটাই দ্বিমুখী অভিজ্ঞতা। আপনি যত বেশি কৌশল বা জ্ঞান ব্যবহার করবেন, তত বেশি ‘ওভারথিংকিং’-এর ঝুঁকিও বাড়ে।”

সবশেষে, বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দরকার ভারসাম্য—এবং পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ আপনি সিদ্ধান্ত না নিলে, অন্য কেউ বা অন্য কিছু আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের প্রভাবক: আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার সিদ্ধান্ত নিই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তই আসে সামাজিক প্রেক্ষাপটে। যেমন—কোনো সম্পর্ক ভাঙবেন কি না, কিংবা বসের সামনে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করবেন কি না।

সফল সামাজিক সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করে অন্যদের উদ্দেশ্য, অনুভূতি ও বিশ্বাস বোঝার ওপর। এক্ষেত্রে আমরা শুধু যুক্তি নয়, অন্যদের মানসিক অবস্থাকেও বিবেচনায় নিই—যা মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশকে সক্রিয় করে।

এখানেই যুক্তি ও আবেগের মিলন ঘটে। গবেষণায় দেখা যায়— আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত সাধারণত অন্তর্দৃষ্টি থেকে আসে। এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত আসে যুক্তিনির্ভর চিন্তা থেকে।  তবে সবার ক্ষেত্রে এটি এক নয়—বিশেষ করে যারা নিজের কাজের সঙ্গে আবেগগতভাবে যুক্ত।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো একক পদ্ধতি নেই।কেউ ভালো-মন্দের তালিকা তৈরি করে, আবার কেউ কেবল নিজের অনুভূতির ওপর ভরসা করে।

ফক্স-গ্লাসম্যানের মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট প্রথম ধাপ নেই। তবে একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে— নিজের লক্ষ্যগুলো লিখে ফেলুন তারপর লক্ষ্যগুলোর ধরন নির্ধারণ করুন। যদি সিদ্ধান্তটি বাস্তবধর্মী বা অর্থসংক্রান্ত হয়,  ভালো-মন্দের তালিকা কার্যকর। যদি সামাজিক লক্ষ্য থাকে (যেমন অন্যের অনুমোদন পাওয়া) তাহলে নিয়মভিত্তিক সিদ্ধান্ত ভালো কাজ করে। আর যদি আবেগগত বিষয় হয় তাহলে অনেক সময় না বুঝেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যায়। 

মোট কথা, বেশিরভাগ বড় সিদ্ধান্তে একাধিক লক্ষ্য কাজ করে—এবং এগুলো একে অপরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। যেমন—আপনি হয়তো আরেকটি সন্তান চান, কিন্তু আর্থিক অবস্থা তা সমর্থন করছে না।

ফক্স-গ্লাসম্যান বলেন, “যখন ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি ভিন্ন ফল দেয়, তখন আমরা অস্বস্তি বোধ করি এবং সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ি।”

তবে সমাধান আছে—

  • দ্বন্দ্বের উৎস চিহ্নিত করুন
  • কোন লক্ষ্যটি আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করুন
  • এতে সিদ্ধান্তটি সহজ না হলেও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

গবেষণা বলছে—যারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, তারা পরে বেশি অনুতপ্ত হয়; বরং যারা সিদ্ধান্ত নেয়, তারা কম অনুতপ্ত হয়।

আর একবার কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, আমাদের মস্তিষ্ক নিজেই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়। ফলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়।

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়