ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২০ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাঙামাটিতে বর্ষবরণে বর্ণিল শোভাযাত্রা

রাঙামাটি প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৫:৪৩, ৯ এপ্রিল ২০২৬
রাঙামাটিতে বর্ষবরণে বর্ণিল শোভাযাত্রা

বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উপলক্ষে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। প্রতিবছর এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে মূলত বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাহাড়িরা এতে অংশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই শোভাযাত্রায় নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি জাতিসত্তার অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারও হয়ে ওঠে এই অনুষ্ঠানের আরেকটি উপলক্ষ। 

মূলত চৈত্রের শেষ দিন ও নববর্ষ বরণকে উপলক্ষ করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা জাতিগোষ্ঠি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে জড়ো হয় পৌর চত্বরে। দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ‘জুম্ম জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণ এবং অপসংস্কৃতির প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন’ এই স্লোগানে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উদযাপন কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ডিসপ্লে প্রদর্শন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ চাকমা।

উষাতন তালুকদার বলেন, ‘‘চৈত্র মাসে জুমিয়াদের পরিবারে স্বাভাবিকভাবেই অভাব থাকে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অনেকেই শান্তিপূর্ণভাবে বিজু উদযাপন করতে পারছেন না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় অবহেলা, ভূমি অধিকার সংকট, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ। পার্বত্য সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা, এটি জাতীয় সমস্যা। আশা করবো সরকার এই সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’’

তিনি জানান, চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে অতীতে বিএনপি সরকারের সঙ্গে ১৩ বার আলোচনা হয়েছে এবং তাদের সদিচ্ছা ছিল বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারা আবার সরকারে এসেছে, তাই এবার চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

আলোচনা সভা শেষে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়।

৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চারদিনব্যাপী আয়োজনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, এদিন নানা ধরনের সবজি দিয়ে রান্না করা হবে টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। ১৪ এপ্রিল পালিত হবে গজ্জ্যাপজ্জ্যা বা পহেলা বৈশাখ।

ঢাকা/শংকর//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়