ঢাকা     বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৫ ১৪৩২ || ১৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৩, ৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১১:১৪, ৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার ভোরে তেহরানের রাস্তায় লোকজন জড়ো হয়

চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

ইসরায়েল

আরো পড়ুন:

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক্স-এ জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, “ইরান যেন আমেরিকা, ইসরায়েল, ইরানের আরব প্রতিবেশী এবং বিশ্বের জন্য পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়- সেই মার্কিন প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।”

তবে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন যে, এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে ‘লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়’, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং ইরানপন্থি হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করছে।

ইরাক

 

ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে, একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকেই এই চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে এবং সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি। আমরা যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিচ্ছি।”

যুদ্ধ চলাকালীন, ইরাকে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হামলা এবং তেহরানের সঙ্গে যুক্ত যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও মার্কিন হামলা দেখা গেছে। ইরান উত্তর ইরাকে সশস্ত্র কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।

মিশর

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি ‘একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ যা আলোচনা, কূটনীতি এবং গঠনমূলক সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে কাজে লাগানো উচিত’।

ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হতে হবে ‘সামরিক অভিযান বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন’। এছাড়া মিশর পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে মিলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে যাবে বলে জানানো হয়।

জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মুখপাত্রের মাধ্যমে তিনি সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ‘অঞ্চলে একটি স্থায়ী ও ব্যাপক শান্তির পথ তৈরি হয়’।

তিনি উল্লেখ করেন, বেসামরিক মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং মানবিক দুর্ভোগ কমাতে সংঘাত বন্ধ করা জরুরি। তিনি পাকিস্তান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

জাপান

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, টোকিও এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে এবং একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির’ অপেক্ষায় রয়েছে। কিওডো নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনই এখন জাপানের প্রধান অগ্রাধিকার।

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। তারা সব পক্ষকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ এই চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, “ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ছে।” তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক এবং সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান।

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, তার সরকার এই সংবাদকে স্বাগত জানাচ্ছে, তবে অনেক উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। তিনি এক্স-এ এক পোস্টে লেখেন, “এটি একটি উৎসাহব্যঞ্জক খবর হলেও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।” তিনি এই চুক্তির পেছনে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়