ঢাকা     শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাঙামাটিতে জুম্ম খেলায় মেতেছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী

রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১২, ১০ এপ্রিল ২০২৬  
রাঙামাটিতে জুম্ম খেলায় মেতেছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী

রাঙামাটিতে বর্ষবরণ উৎসবের সূচনালগ্নে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মেতেছে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া উৎসবে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সকালে রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় জুম্ম খেলা। 

বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান, চাংলান ও পাতা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্রীড়া উৎসবে রাঙামাটি শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার তরুণ-তরুণী এবং বয়স্ক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ রূপ নেয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মিলনমেলায়।

আধুনিক খেলার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা জুম্মদের নিজস্ব খেলাগুলোই ছিল এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ। প্রতিযোগিতায় ছিল বাঁশের তৈরি বিশেষ পাদুকা পরে দ্রুত হাঁটার বাঁশখরম প্রতিযোগিতা, নাদেং খেলা, বনের বড় আকৃতির ঘিলা (বীজ) দিয়ে লক্ষ্যভেদের আদিম ও জনপ্রিয় ঘিলা খেলা।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা জানান, এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, বরং শিকড়কে চেনার মাধ্যম। অংশগ্রহণকারী সীমা চাকমা বলেন, সারা বছর এসব খেলা খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু বিজু উৎসবে যখন আমরা এই খেলাগুলো খেলি, তখন শৈশব আর পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের কথা মনে পড়ে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে।

অপর অংশগ্রহণকারী সুজন চাকমা বলেন, আধুনিক যুগে আমরা যখন স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে থাকছি, তখন মাঠে এসে ঘিলা খেলা বা বাঁশখরম প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াটা অন্যরকম এক রোমাঞ্চ। আমাদের এসব খেলা কেবল আমাদের বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় বহন করে। তাই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এই খেলাগুলো গ্রাম পর্যায়ে নিয়মিত আয়োজন করা উচিত যাতে এগুলো হারিয়ে না যায়।

উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি চাকমা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন নিজেদের শেকড় এবং হাজার বছরের ঐতিহ্য ভুলে না যায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রতি বছর এই ধরনের খেলাধুলার  আয়োজন করি। বিশ্ব দরবারে আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা এবং তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় করে তোলা আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই এই খেলাগুলোর মাধ্যমে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ুক এবং আমাদের ঐতিহ্য সগৌরবে বেঁচে থাকুক।
 

ঢাকা/শংকর//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়