ঢাকা     শনিবার   ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৯ ১৪৩২ || ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়ে অজুহাত সহ্য করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৪, ১১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৭:৩৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬
পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়ে অজুহাত সহ্য করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়ে কোনো অজুহাত সহ্য করা হবে না। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল, এমন অজুহাতও শুনব না। যদি এমন হয়, তাহলে বুঝব— ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আইন এমনভাবে করব, যা কেবল ছাত্রছাত্রীদের জন্য নয়, আমাদের নিজেদের দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হচ্ছে, তা আমাদের নখদর্পণে। এখন থেকে সব নজরদারি করা হবে।”

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা ভাবছে, আগের মতো মব করলে কিংবা ফেসবুকে হা হা রিয়্যাক্ট দিলে বোধহয় আমি ঘাবড়ে যাব। মোটেও না। গুজব রটানো হয়েছে, পরীক্ষার হলে ঘাড় ঘোরাতে দেওয়া হবে না। কেন ঘাড় ঘোরানো যাবে না? শিক্ষার্থীদের ঘাড় ঘোরাতে দেব না, এটা কি হয়? আপনারা ঘোরাননি? সবাই ঘুরিয়েছেন। এটা ধরতে কিন্তু সিসি ক্যামেরা লাগাব না।”

এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমি তো কাউকে থ্রেট করিনি। শিক্ষার্থীদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এখন তো সেই দিনও নেই যে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরব। কিন্তু, তারা আমার পদত্যাগ চাইছে। আমি কেন পদত্যাগ করব? পদত্যাগ তো তখন করব, যখন সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষাটা আমি নিতে পারব না।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শূন্য শতাংশ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের পূর্বঘোষণা থাকলেও মানবিক বিবেচনায় এবার তা কার্যকর করা হচ্ছে না।” তবে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘পোষ্য কোটা’র কড়া সমালোচনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। 

তিনি বলেছেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতে পাশ করেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। আমরা চাই না, কেউ বিনা পরীক্ষায় বা বিশেষ সুবিধায় পার পেয়ে যাক।” 

তিনি প্রস্তাব করেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের বাধ্যতামূলকভাবে জেলা স্কুলেই পড়ানো উচিত, যাতে সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মানবসম্পদ তখনই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে, যখন তাকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।” 

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, এ কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের (রিফর্ম) ডাক দেন।

সঙ্ঘবদ্ধ কোনো নকল চক্র থাকলে তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়াক বা ফলাফলে ধস নামুক। তবে, কোনোভাবেই বিনা পরীক্ষায় পাশ বা অনৈতিক সুযোগ দেওয়া হবে না।”

মতবিনিময় সভায় রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তিন বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম।

ঢাকা/মাহী/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়