ঢাকা     শনিবার   ০২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৯ ১৪৩৩ || ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চোখে লাগা আঘাত আড়াল করতে শিশু আয়েশাকে হত্যা: পুলিশ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৫, ২ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:১৫, ২ মে ২০২৬
চোখে লাগা আঘাত আড়াল করতে শিশু আয়েশাকে হত্যা: পুলিশ

রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

আরো পড়ুন:

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের মেয়ে আয়েশা গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা করেন।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ একটি দল তদন্তে নামে। গত ৩০ এপ্রিল পরিচালিত অভিযানে মাচাবান্ধা এলাকার বাসিন্দা কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে খেলতে যায়। কহিনুর বেগমের ছেলের সঙ্গে খেলার সময় আয়েশার চোখে একটি কলমের আঘাত লাগে। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। পরে আয়েশার মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয় এবং রাতের অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার কুড়িগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম বলেন, “ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ঢাকা/বাদশাহ/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়