ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১৭৫ বিঘা জমির ফসল হারিয়ে দিশেহারা আব্দুল আহাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ১৫ মে ২০২৬  
১৭৫ বিঘা জমির ফসল হারিয়ে দিশেহারা আব্দুল আহাদ

‘‘না আছে ঘরে খাওন। না পারবো মহাজনের ঋণ শোধ করতে। নতুন ঘর বুনার স্বপ্নও পানির নিচে। ১৭৫ বিঘা জমির ফসল হারিয়ে আমি এখন দিশেহারা।’’ কথাগুলো প্রান্তিক এলাকার কৃষক আব্দুল আহাদের। 

মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওর পারের কৃষকদের বারো মাসের এক ফসল বোরো। এই ফসল থেকেই তাদের জীবন জীবিকার সবকিছু যোগাড় হয়। চলতি বছর পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে গেছে কাউয়াদিঘি হাওরের ফসলের জমি। ফলে মৌসুমের বোরো ধান হারিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন স্থানীয় কৃষক। তাদেরই একজন আব্দুল আহাদ। 

রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের হাওরপারের পশ্চিমভাগ গ্রামের আব্দুল আহাদের সঙ্গে যখন এই প্রতিবেদকের দেখা হয় তখন তিনি সব হারিয়ে দিশা খুঁজছিলেন। ঋণ করে জমি বন্ধক নিয়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করে ১৭৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন তিনি।

আব্দুল আহাদ বলেন, ‘‘কাউয়াদিঘিতে এবার খেত ভালো হয়েছিল। আমি লামা মিটিপুরে ১৭৫ বিঘা জমি বন্ধক রেখে চাষ করি। আশা ছিল অনেক বেশি ধান পাবো। আয় হবে ২০ লাখ টাকা। তা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। নতুন একটা ঘর দিতে চাইছিলাম। মহাজনের ঋণ পরিশোধ করে উন্নতমানের কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ইচ্ছা আছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন পানির নিচে ডুবে গিয়ে এখন আমি নিরুপায় হয়ে গেছি।’’

আব্দুল আহাদ মাত্র ২ বিঘা জমির ধান গোলায় তুলতে পেরেছেন। পানির নিচ থেকে তুলে আনার কারণে ধানে দুর্গন্ধ রয়েছে। এই ধান খাওয়ার উপযোগী নয়। পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে এখন তিনি কী করবেন সে কথা ভাবছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘বিঘাপ্রতি এক হাজার টাকা করে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকার জমি বন্ধক নিয়ে তিন লাখ ৭ হাজার টাকার সার বীজ ও এক লাখ ১৫ হাজার টাকার হাল চাষের খরচ করে এবার  বোরো আবাদ করেছিলাম। আমার মতো এলাকার অনেক কৃষকের সোনালি স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে গেছে।’’

একই এলাকার মজর আলী বলেন, ‘‘কৃষকেরা মনের জোড়ে কষ্ট করে যে ধান পানির নিচ থেকে উঠাচ্ছে এই ধানে অঙ্কুর এসেছে। তা দিয়ে কোনো কাজ হবে না। তারপরও শেষ চেষ্টা তারা করছেন। এদের সাহায্যে এখন সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।’’

একই কথা বলেন পশ্চিমভাগ গ্রামের বয়তুল আলী। ‘‘এলাকার অধিকাংশ প্রান্তিক চাষীরা খেত করেন মহাজনের কাছ থেকে দাদন এনে। এই শ্রেণির চাষীরা মহা সংকটে রয়েছেন। এবার তাদের দেনার পরিমাণ বেড়ে যাবে,’’ যোগ করেন তিনি। 

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘‘জলাবদ্ধতার কারণে হাওর কাউয়াদিঘিতে ১২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে।’’

টাকার হিসাবে অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।  

ঢাকা/আজিজ//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়