ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ওমানে নিহত ৪ ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, খোঁড়া হয়েছে কবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০০, ২০ মে ২০২৬  
ওমানে নিহত ৪ ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, খোঁড়া হয়েছে কবর

চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামে চার ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে পৌঁছেছে চারটি অ্যাম্বুলেন্স।

চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামের পরিবেশ আজ ভারী হয়ে আছে কান্না আর শোকে। গ্রামের সরু পথ পেরিয়ে একের পর এক মানুষ ভিড় করছেন গ্রামের বান্দারাজার পাড়ার আবদুল মজিদের বাড়িতে। এই বাড়ির চার সন্তান ওমানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তাদের মরদেহ দেখতে মানুষদের এই আগমন।

সাদা কাফনে মোড়ানো ভাইদের নিথর দেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারিতে বারবার ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ। তাদের সান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরা। তারা জানান, এক বাড়ি থেকে একসঙ্গে চার ভাইয়ের লাশ আসবে এমন দৃশ্য তারা কখনো দেখেননি।

আরো পড়ুন:

ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে মারা যাওয়া চার সহোদরের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছায়। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

বুধবার (২০ মে) সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। তাদের বিদায় জানাতে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সব প্রস্তুতি। সকাল ১১টায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া চারটি কবরে তাদের দাফন করা হবে।

মারা যাওয়ারা হলেন- বান্দারাজার পাড়ার আবদুল মজিদের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। জীবিকার তাগিদে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন ওমানে। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের আল মিলিদ্দা, আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে মরদেহগুলো ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বজনদের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। বুধবার সকাল থেকেই গ্রামের মানুষ ভিড় করছেন বাড়িটিতে। কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাদের মা-বাবা ও স্বজনরা। 

গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, এক বাড়ি থেকে একসঙ্গে চার ভাইয়ের লাশ আসবে, এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি। পুরো গ্রাম আজ স্তব্ধ।

ঢাকা/রেজাউল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়