ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুদ্ধ শুরু হলে আরো বড় চমক দেখাবে ইরান: আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩০, ২০ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:৩১, ২০ মে ২০২৬
যুদ্ধ শুরু হলে আরো বড় চমক দেখাবে ইরান: আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

ইরানের ওপর আবারো কোনো ধরনের উস্কানিমূলক আগ্রাসন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আরো বড় চমক’ অপেক্ষা করছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খবর প্রেস টিভির।

বুধবার (২০ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন আরাঘচি। তিনি বলেন, অতীতের সংঘাতগুলো থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে এবার এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না।

আরো পড়ুন:

মার্কিন কংগ্রেসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ বেআইনি সামরিক অভিযানে মার্কিন বিমান বাহিনীকে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা এখন খোদ মার্কিন প্রশাসনই স্বীকার করছে।

কংগ্রেসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা আঘাতের মুখে মাত্র ৪০ দিনের সামরিক অভিযানে অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক মার্কিন বিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কেবল বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ওয়াশিংটনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে- চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান, ১টি এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান, ১টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান, ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং বিমান, ১টি ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান, ২টি এমসি-১৩০জি কমান্ডো টু বিমান, ১টি এইচএইচ-৬০ডাব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ও ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। কারণ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) যুদ্ধকালীন সব ক্ষয়ক্ষতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব করেছে কিনা তা এখনও ‘অস্পষ্ট’।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া কিছু সামরিক প্রযুক্তির উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ থাকায় সেগুলো নতুন করে তৈরি করতে উৎপাদন লাইন পুনরায় চালু করতে হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিস্থাপন খরচ ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া, একটি খুবই মূল্যবান ই-৩ সেন্ট্রি বিমান হারানোর ফলে পূর্বে বাতিল হওয়া ‘ই-৭ ওয়েজটেইল’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে বাধ্য হতে পারে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ, যার খরচ ২৫০ কোটি ডলারেরও বেশি।

ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর মার্কিন কংগ্রেস বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডজন ডজন বিমান হারানোর কথা স্বীকার করতে বাধ্য হলো। আর এর মাধ্যমে এটিও প্রমাণিত হলো যে, আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীই বিশ্বের প্রথম সামরিক বাহিনী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রশংসিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।”

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “পরবর্তী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের ‘আরো অনেক চমক’ থাকবে।”

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

এই সংঘাতের পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। সেখানে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পারদকে দ্রুত নিচে নামিয়ে দিচ্ছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়