ঈদযাত্রা শুরু, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের ভিড়
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মজীবী মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে। বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, ট্রাক ও পিকআপে করেও ঢাকা থেকে আসছেন যাত্রীরা।
পরিবহন চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কে এখন পর্যন্ত যানজট সহনশীল থাকলেও, সময় বাড়ার সাথে সাথে ভিড় ও ভোগান্তি দুই-ই বাড়বে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাসে রাস্তার দুইপাশে গাড়ি পার্কিং, চুরখাই রাস্তার পাশে অটোরিকশার স্ট্যাণ্ড, বইলর, ত্রিশাল, ভরাডোবা, ভালুকা এবং স্কয়ার মাস্টারবাড়িসহ কমপক্ষে ১০টি পয়েন্টে রাস্তার ওপর বাস দাড় করিয়ে রাখা ও অটোরিকশার স্ট্যাণ্ডের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও, গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সেইসব জায়গায় আবারো ভাসমান দোকান, বাজার ও সিএনজি স্ট্যান্ড বসে গেছে।
উত্তরাঞ্চলসহ প্রায় ৩২টি জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। প্রতি ঈদেই এই সড়কে নামা মানুষের ঢল ও নানা দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী। এবারও নির্মাণাধীন সড়ক, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা।
ঢাকাগামী ইমাম পরিবহনের চালক রাশেদ মিয়া বলেন, “ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, বাইপাস, চুরখাইসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবছরই যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও এসব স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও স্ট্যান্ড সরানো হয়নি। তার ওপর মহাসড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচল তো আছেই।”
ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “যতই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক না কেন মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসায় যানজট হবেই। প্রশাসন কঠোর হলে হয়তো যানজট কিছুটা কম হতে পারে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল যানজটের আরেক কারণ।”
বেশ কয়েকজন বাসযাত্রী বলেন, মানুষের সচেতনা ও প্রশাসনের কঠোরতা পারে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবে যানজট ঈদ আনন্দের একটি অংশ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, একই জায়গায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়, যা চরম বিরক্তিকর ও কষ্টকর।
এদিকে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তা প্রশাসনের বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘরমুখী মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। পুরো মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ দায়িত্বে থাকবে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, সড়কের ধারে অনিয়মিত পার্কিং বন্ধ ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো.সাইফুর রহমান বলেন, গত ২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রিশাল আগমন উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ঈদেও যান চলাচল নির্বিঘ্ন হবে। আর আমাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আশা করছি, মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে।
ঢাকা/মিলন/ফিরোজ
কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে