ঢাকা     সোমবার   ০৮ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৫ ১৪৩৩ || ২৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক

গাজীপুর পূর্ব প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৯:১৯, ৮ জুন ২০২৬
১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে সোমবার (৮ জুন) সকালে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। 

আটক সাব্বির আহমেদ শামীম (৩০) রুদ্রপুর এলাকার আরফান আলীর ছেলে। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টাইলস ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকনের মালিকানাধীন একটি জমিতে উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে বালু ভরাট করা হচ্ছিল। এ সময় শামীম সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় জমির মালিক নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি জমির উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে সেখানে বালু ভরাট শুরু করা হয়।

তার দাবি, গত ৭ জুন বিকেলে বালু ভরাটের কাজ চলাকালে শামীম কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে জমিতে কোনো ধরনের কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন সকালে পুনরায় কাজ শুরু হলে শামীম ও তার সহযোগীরা আবার সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার জেরে নুরুদ্দিন খন্দকারের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নুরুদ্দিন খন্দকার আরো দাবি করেন, হামলার সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা শামীমকে আটক করলেও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।

তবে, সাব্বির আহমেদ আহমেদ শামীম চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বালু ভরাটের কাজ তাদের জমির অংশ ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।

ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেছেন, “বিষয়টি সংগঠনের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নুরুদ্দিন খন্দকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে সাব্বির আহমেদ শামীমকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা/রফিক সরকার/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়