ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চবিতে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

চবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ১৫ জুন ২০২৬  
চবিতে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথক দাবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করেছে চবি শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এতে উভয়পক্ষের মাঝে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা দেখা গেছে।

আরো পড়ুন:

রবিবার (১৪ জুন) ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে রাত ১০টায় ছাত্রদল ও রাত সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলু শুরু করে ছাত্রশিবির। পরে সোহরাওয়ার্দী হল মোড় পার হয়ে ফের জিরো পয়েন্টে জড়ো হয় উভয় দল। এ সময় পাল্টাপাল্টি নানা স্লোগানে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

গুম ও অপহরণে ‘নাটক’ সাজিয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সরকারবিরোধী মিথ্যা প্রচার এবং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। অপরদিকে, বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে এক মন্তব্য ও দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির।

মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা 'ধর্ষকদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও', 'এ বাংলায় হবে না, ধর্ষকদের ঠিকানা', 'জামাত শিবির জামাত শিবির, ধর্ষক ধর্ষক', 'ধর্ষণ করে গুমের নাটক, চলবে না চলবে না' ইত্যাদি স্লোগান দেন।

অন্যদিকে, 'হিজাব নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না', 'মনিরের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে', 'বিএনপি যুবদল, ধর্ষক ধর্ষক', 'হিজাব নিয়ে দিলে টান, গদি হবে খান খান', 'হিজাব নারীর অলঙ্কার, মনিরুল হক ধিক্কার' ইত্যাদি স্লোগান দেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের ধর্ষণকারীদের মতো কাজ করছে। বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষকদের জায়গা নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।”

তিনি আরো বলেন, “ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তবে অন্যায়, অবিচার কিংবা অপরাধের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

চবি শিবিরের সভাপতি ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একজন এমপি হিজাব নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা খুব দুঃখজনক। এ ধরনের মন্তব্য একজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত নয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্য দিয়ে দিলে আমরা হয়তো আন্দোলন করতাম না, কারণ পাগলের কোনো বিচার নেই।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানেও পোশাকের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। অথচ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একজন এমপি পোশাক নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। আমরা তার এ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”

ঢাকা/মিজানুর/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়