RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১২ ১৪২৭ ||  ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

যে ৮ কারণে পড়তে যাবেন স্কটল্যান্ডে

ক্যাম্পাস ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ৩০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:০৫, ৩০ নভেম্বর ২০২০
যে ৮ কারণে পড়তে যাবেন স্কটল্যান্ডে

ছোট একটি জাতি হলেও স্কটল্যান্ড ইতিহাসের কালক্রমে আধুনিক বিশ্বের উপর এক বিরাট প্রভাব ফেলে আসছে। স্কটিশ উদ্ভাবকরা শিল্প-বিপ্লবকে চালিত করে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রেখেছেন। সেখানকার দার্শনিকেরা গণতন্ত্র, মুক্তবাক এবং লিঙ্গ ও সামাজিক সমতাসহ বেশকিছু রাজনৈতিক আদর্শ গঠনে সহায়তা করেছেন। স্কটল্যান্ড একাডেমিক গবেষণা ও নতুনত্বের অন্যতম কেন্দ্র।

স্কটল্যান্ড আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের, বিশেষত স্নাতকোত্তর গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় গন্তব্য। প্রকৃতপক্ষে, স্কটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফুলটাইম মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী দেশের বাইরে থেকে আসে।

স্কটল্যান্ডে উচ্চতর অধ্যয়নের পেছনে আছে অনেক যৌক্তিক কারণ। বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ‘মাস্টারস্টাডিজ’ উচ্চশিক্ষার জন্য স্কটল্যান্ডকে বেছে নেওয়ার পেছনে আটটি কারণের কথা উল্লেখ করেছে।

স্কটল্যান্ডে আছে বিশ্বসেরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়

টাইমস হাইয়ার এডুকেশনের জরিপে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় আছে স্কটল্যান্ডের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়। এদের মধ্যে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় আছে সবার ওপরে, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আছে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়, এর্বার ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়।
এই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা এক ডজনেরও বেশি নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেছেন। শার্লক হোমসের স্রষ্টা আর্থার কনান ডয়েল এবং দার্শনিক ডেভিড হালমের মতো উন্নত চিন্তার মানুষেরা জন্মেছেন দেশটিতে। অন্যান্য বিখ্যাত প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন চার্লস ডারউইন, অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী সাইক্লিস্ট স্যার ক্রিস হোয়।

তাক লাগানো সব গবেষণা

স্কটল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণে উদ্ভাবনী গবেষণা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ ও স্নাতক শিক্ষার্থীরা যক্ষ্মা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো বায়ুবাহিত রোগের বিস্তারকে কমানো নিয়ে কাজ করছেন।
এদিকে, গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদাহ গবেষণা কেন্দ্রের ১৫০ গবেষকের একটি দল কোভিড-১৯ এর দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী প্রভাবগুলির চিকিত্সার জন্য পরীক্ষামূলক ওষুধ পরীক্ষা করছে। রবার্ট গর্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (আরজিইউ) স্কুল অফ লাইফ সায়েন্সের অধ্যাপক ক্রিস্টিন এডওয়ার্ডস সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিষ্কার পানীয় জল সরবরাহ করার পদ্ধতি বের করার কারণে ২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়নে পুরস্কৃত হয়েছেন।

দেশটিতে আছে এগিয়ে যাওয়ার বিস্তর সুযোগ

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের ৯০ ভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বলছেন, তারা তাদের শেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে খুব সন্তুষ্ট। যাদের মধ্যে ৮২ ভাগ স্নাতক তাদের ডিগ্রি নিয়ে খুশি ও ৮৩ ভাগই স্নাতক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই পড়াশোনার সাথে প্রাসঙ্গিক শিল্পে কর্মসংস্থান পেয়েছেন। স্বদেশে ফিরে আসা অর্ধশতাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বলেছেন যারা বিদেশে যায়নি তাদের থেকে তারা বেশি আয় করছেন।

শিক্ষাখাতে আরও বেশি নারী অংশগ্রহণ চায় স্কটল্যান্ড

গত বছরের অক্টোবরে স্কটিশ শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আরও বেশি নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগী হন। ‘অ্যাডা স্কটল্যান্ড ফেস্টিভালট’ নামে উৎসবে দেশটিতে বর্তমান লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরে একাধিক ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তারা কম্পিউটিং ও অন্যান্য বিষয়গুলিতে আগ্রহী মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যিকারের সুযোগের দিকে নজর দেয়।

দক্ষতা-ভিত্তিক পড়াশোনা

স্কটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত এমন উচ্চদক্ষ স্নাতক তৈরিতে প্রচুর জোর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ফালকির্ক ফোরথ ভ্যালির মতো কলেজগুলি ক্লাসের আকার যথাসম্ভব ছোট রাখে, শিক্ষার্থীদের প্রভাষকদের সাথে একযোগে আরও সময় কাটাবার সুযোগ দেয়। প্রভাষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরামর্শ প্রদান করে, মৌলিক তাত্ত্বিক ধারণাগুলি বোঝার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্রে পূর্ণ স্কটল্যান্ড

স্কটল্যান্ডে আছে ২৫০ এর বেশি জাদুঘর ও ১০০ টিরও বেশি গ্যালারী। কেলভিংগ্রোভ আর্ট গ্যালারীর মতো জায়গাগুলোতে গেলে পাওয়া যাবে সালভাদোর ডালির মতো বিখ্যাত শিল্পীদের কাজ। মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সময় কাটাতে পারেন সার্জনস হল জাদুঘরে। নিজেকে মেডিকেল খাতের অংশ হিসেবে প্রস্তুত করার এক দুর্দান্ত জায়গা। এমন অসংখ্য সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক বৈচিত্রে ঠাসা এক দেশ স্কটল্যান্ড।

নানা বৈচিত্রের মানুষের সাথে মেশার সুযোগ

যদিও স্কটল্যাণ্ডের নিজস্ব ভাষা রয়েছে তবু সেই ১৮ শতক থেকে ইংরেজি দেশটির প্রভাবশালী ভাষা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে খুব সহজে দেশটির মানুষের সাথে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মিশে যেতে পারে ও বন্ধুত্ব করতে পারে। তাদের মাঝে এক ধরণের সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটে।

স্কটল্যান্ড খুবই সুন্দর একটি দেশ

ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থীর পাহাড়ে ভ্রমণ খুবই পছন্দ। তবে তার জন্য স্কটল্যান্ডে আছে ব্রিটেনের উঁচু উঁচু সব পাহাড়সারি। সবুজের সারির মাঝে স্কটল্যান্ডের স্বচ্ছ পানির সব লেক যে কারো দৃষ্টি কেড়ে নিতে বাধ্য।

স্কটল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। দেশটিতে আছে বৃটেনের বেশ অনেকটুকু ‘ড্রাই স্কাই পার্ক’ যা জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তীর্থস্থান।

শুধু এই আট কারণেই নয়, আরও না কারণে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমানে বেছে নিচ্ছে স্কটল্যান্ডকে।

ঢাকা/নোবেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়