ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১১ ১৪৩১

নজরুলের সুর বিকৃতি: জাককানইবিতে প্রতিবাদ

জাককানইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ২০ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৪:০২, ২০ নভেম্বর ২০২৩
নজরুলের সুর বিকৃতি: জাককানইবিতে প্রতিবাদ

ভারতীয় চলচ্চিত্রে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ গানের চিরচেনা ও বিখ্যাত সুর বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত গানটি বাদ দেওয়া ও গানটির পরিচালক প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীত পরিচালক এআর রহমানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়।

সোমবার (২০ নভেম্বর) সকালে সংগীত পরিচালক এআর রহমান ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ গানের সুর বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের পাদদেশে র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে এসব দাবির কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য ও বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।

তিনি বলেন, ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ গানটি বাঙালির ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে গানটি গ্রহণ হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে সূর্যসন্তানরা এ গান গেয়েছেন। এ গান গেয়ে হেসে হেসে জীবন দান করেছেন। ফলে এ গান শুধু আর গান নেই। এটি বাঙালির হৃৎস্পন্দনে পরিণত হয়েছে, আবেগে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক গানের একটি কপি রাইট থাকে। সে কপিরাইটে এটি কেউ বিকৃতভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ভারতের একটি চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে সুরারোপ করেছেন ভারতের একজন বিখ্যাত সুরকার। আমি এই সুরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারণ তিনি অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন, তিনি অস্কার বিজয়ী। এরকম একজন মানুষের কাছে দায়িত্বহীন কাজ আমরা আশা করি না। যে কারণে আমরা বলবো- তিনি অনেক ভালো কাজ করেছেন এবং পুরষ্কৃতও হয়েছেন। কিন্তু তিনি যেভাবে নজরুলের গানের সুর বিকৃত করেছেন, তার জন্য আমরা তাকে পুরষ্কৃত করতে পারবো না; বরং তিরস্কার জানাই।

ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, এ আর রহমানের আরোপিত সুর বাঙালিকে ধারণ করতে পারেনি। বাঙালির আবেগকে ধারণ করতে পারেনি। বরং একটি দুর্বল সুরের মধ্য দিয়ে বাঙালির মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে উপেক্ষা করা হয়েছে। আসুন সম্মিলিত প্রতিবাদের মাধ্যমে এ আর রহমানের এ সুরটিকে আমরা বর্জন করি।

এসময় ‍উপাচার্য চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে আপনারা এ সুর প্রত্যাহার করে নিন। চলচ্চিত্রের যে অংশে এ গানটি ব্যবহৃত হয়েছে, সে অংশটুকু সম্পাদনা করে বাদ দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বিতর্কিত অংশটুকু যাতে বর্জন করা হয়, সে ব্যপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। এ গানটি যেন কোনোভাবে প্রচার না হয়, আমরা যেন শ্রবণ না করি, গানটি নিয়ে বাইরে যেন অন্যদের সঙ্গে গল্প না করি। মিলিয়ন ভিউয়ের পাল্লায় না ফেলে, গানটিকে আমরা যেন আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মাসুম হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রিয়াদ হাসান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

/তৈয়ব/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়