ঢাকা     সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

রাবিতে ইসলামিক স্টাডিজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ৩০ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৫:৩২, ৩০ নভেম্বর ২০২৩
রাবিতে ইসলামিক স্টাডিজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

গত ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রকাশিত নীতিমালায় স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের আরবী প্রভাষক পদে নিয়োগ বাদ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় আরবি প্রভাষক নিয়োগে পুনরায় সংযুক্ত করার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন করেছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রথম থেকে সপ্তদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২০ সাল পর্যন্ত স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভি ও প্রভাষক পদে আবেদনের সুযোগ পেত। যাদের অনেকেই এখন মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভি ও প্রভাষক পদে চাকুরিরত।

কিন্তু ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বরে এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের নীতিমালা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি-২০২২ এ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে উত্তীর্ণদের প্রাথমিক সুপারিশ করা হলেও চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করা হয়নি।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার হাবিব বলেন, কিছুদিন পূর্বে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, সেখানে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয় সেখানে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। অথচ এনটিআরসিএ প্রণীত নীতিমালায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের এখানে বাংলা ইংরেজি আরবিসহ সব বিষয় পড়ানো হয়। আপনারা মুসলমান হয়ে আরেক মুসলমান ভাইয়ের উপর বৈষম্যের নীতি প্রয়োগ করতে পারেন না। আমরা এই প্রজ্ঞাপন বাতিল চাই।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ বলেন, এই নীতি প্রয়োগ করে আমাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদেরকে সুযোগ দিতে হবে। অন্যায্য ও অন্যায়ভাবে জারি করা বৈষম্যমূলক নীতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ফাজিল কামিলে যা পড়ানো হয়, তার চেয়ে আমাদের আরও মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয়। অথচ এ ধরনের নীতি প্রণয়ন করে আমাদেরকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এএনএম মাসুদুর রহমান বলেন, ১৮তম নিবন্ধন থেকে ইসলামিক স্টাডিজকে বাদ দিয়ে আমাদের ছাত্রদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করা হয়েছে। আমরা এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাই। এটি খুবই দুঃখজনক ও ঘৃণ্য একটি সিদ্ধান্ত। অনতিবিলম্বে আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চাই।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর এনটিআরসিএ অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২৩ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরবী ও ফিকহ্ বিভাগে সহযোগী মৌলভি ও প্রভাষক পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফাজিল বা কামিল ডিগ্রি অথবা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মাদ্রাসাসমূহ থেকে ফাজিল বা কামিল ডিগ্রি অথবা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু স্বীকৃত অন্য সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ওই পদে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

/বিজয়/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়