ঢাকা     সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী জয়নুল উৎসব শুরু

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩  
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী জয়নুল উৎসব শুরু

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে  দুইদিনব্যাপী জয়নুল উৎসব-২০২৩। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুরুলিয়া মঞ্চে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হয়।

আগামী ২৯ ডিসেম্বর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জন্মদিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে এ জয়নুল উৎসব শুরু হয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি থাকায় শিল্পাচার্যের জন্মমাসে এবারেই প্রথম বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তপন কুমার সরকার।

উৎসবের অংশ হিসেবে থাকছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা,  আর্ট ক্যাম্প, চিত্রকলা প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় জয়নুল উৎসবের মতো আয়োজিত অনুষ্ঠানকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানায়। আমাদের সংস্কৃতি হচ্ছে বাঙালির প্রাণ ভোমরা, বাঙালিকে বাঁচিয়ে রাখবে চিরদিন। আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির মূলে যারা কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম জয়নুল আবেদিন। আমাদের শিল্পকলার যে ধারণা, এটি বহু আগে থেকেই বাঙালি সংস্কৃতিতে প্রবাহমান। কিন্তু জয়নুল আবেদিন আমাদের এই চারুকলাকে এমন মাত্রায় নিয়ে গেছেন যে, চারুকলার বিদ্যা আমাদের অনেক বেশি অণুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, আমাদের এই পূর্ব অঞ্চল পরবর্তীকালে বাংলাদেশে এই অঞ্চলে যারা শিল্প চর্চা করেছেন তাদের পথিকৃৎ ছিলেন জয়নুল আবেদিন। বাঙালিদের মধ্যে শিল্পচর্চা করবার ক্ষেত্রে নানা রকমের কূপমণ্ডুকতা ছিলো, পশ্চাৎপদতা ছিল, চারিদিকে না-না রব ছিলো। এই না-এর বৃত্ত যে কয়েকজন ভাঙতে পেরেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জয়নুল আবেদিন।

চারুকলার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি  বলেন, মানুষের সভ্যতার যে ইতিহাস সেখানে চারুকলাকে সভ্যতার সূচনা থেকে আমরা পেয়েছি। আমরা যে একটা দাগ দেই, প্রস্তরে লেখা দেখেছি সেগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় চারুকলা আমাদের সভ্যতার সূচনাতে আছে। চারুকলা দিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে। তাই চারুকলার শিক্ষার্থীদের বিশ্ব মানব হয়ে গড়ে উঠতে হবে। তাদের মধ্যে এই শক্তিটি থাকতে হবে।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুম হাওলাদারের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নগরবাসী বর্মন।

/তৈয়ব/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়