ঢাকা     সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

জাবিতে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা

জাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩  
জাবিতে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) 'একুশ শতকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নির্বাচন' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য ছিল, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নির্বাচন তিনটি বিষয়ই এক এবং অভিন্ন। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি চিন্তা করা যায় না।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ' এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, 'আগামী জাতীয় নির্বানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমাদের নিজেদের মধ্যে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। মানবাধিকার দিবস রাজনৈতিক উপাখ্যানে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশের উপর কীভাবে স্যাংশন আসে। কিন্তু স্যাংশন না আসায় তাদের মন খারাপ। তারা মানবাধিকারের কথা বলে। প্যালেস্টাইনে কোথায় তাদের সেই মানবাধিকার ও গণতন্ত্র?

তিনি বলেন, হেনরি কিসিঞ্জার যখন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন, তখন আমাদের মাথাপিছু আয় ছিলো মাত্র ৯০ ডলার। আজকে আমাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ হাজার ডলার। ২০৪১ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় হবে সাড়ে বারো হাজার ডলার। ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশেকে আবারও সেই তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করতে চায়। আমরা সেই তলাবিহীন বাংলাদেশ চাই না। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে যে বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, আমরা সেই বাংলাদেশ চাই। আজ দেশে-বিদেশে বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আপনাদেরকে সেই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম বলেন, 'উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নির্বাচন তিনটি বিষয়ই এক এবং অভিন্ন। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি চিন্তা করা যায় না। স্বাধীনতার প্রথম দিকে এ দেশে কিছুই ছিলো না। বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে এ দেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও অন্যান্য অবকাঠামো শক্তিশালী করেন। প্রথম থেকেই তিনি সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রচেষ্টা চালান। ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়। তবে তা আবার শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যার মাধ্যমে।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ এ মামুন বলেন, 'অনেক দেশ ও সংগঠন মানবতার কথা বলে। ১৫ আগস্টের চেয়ে ঘৃণ্য কাজ পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি৷ তখন জাতিসংঘ বা আমেরিকার মানবতা কোথায় ছিলো? প্রধানমন্ত্রী বেঁচে আছেন শুধু দেশ ও জনগণের জন্য। প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন করেছে তা অতীতে কখনো হয়নি। ভবিষ্যতে যদি হয় তবে তা শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার দ্বারাই হবে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের দায়িত্ব হলো ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে আবারও জয়যুক্ত করা।

অনুষ্ঠানে স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার, প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ প্রমুখ।

অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার আবু হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

/আহসান/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়