ঢাকা     রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

কুবির ৬ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

কুবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ২৩ জুন ২০২৪  
কুবির ৬ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দাবির প্রেক্ষিতে ছয় বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। 

অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির দাবি অযৌক্তিক। এ নিয়োগগুলো ৩০ জুনের মধ্যে না দিতে পারলে পদগুলো চলে যাবে। তখন আবার শিক্ষক সংকট নিরসন হবে না। নিয়োগ পরীক্ষাগুলো স্থগিত হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলো। তবুও আমি শুধু শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তাদের এই অযৌক্তিক দাবি মানতে বাধ্য হলাম। আশা করি, খুব দ্রুতই নিয়োগ পরীক্ষাগুলো নিতে পারবো।’

এর আগে, প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত শিক্ষক লাউঞ্জে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি। এতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ঘটা ঘটনাগুলোর জন্য উপাচার্যকে দায়ী করা হয়। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগের শর্ত কমিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার। এ উপাচার্যের সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়ম মেনে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। শিক্ষক সমিতির ভাষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত 'অবৈধ' ডিন ও চেয়ারম্যানরা নিয়োগ বোর্ডে বসে নিয়োগ দিলে সেটা অবৈধ হবে। 

পাশাপাশি শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কুবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় গৃহীত চারটি সিদ্ধান্ত পাঠ করে শোনান অধ্যাপক ড. তাহের। সিদ্ধান্তগুলো হলো- রোববার (২৩ জুন) থেকে শ্রেণি কার্যক্রম চললেও বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি চলবে; শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হাওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন; নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন নিয়োগ বন্ধ করা এবং সর্বশেষ ২০ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষকদের দাবিগুলো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে পূর্বের মতো আন্দোলনে যাবে শিক্ষক সমিতি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে তাদের দাবির মুখে সোমবারের (২৪ জুন) তিনটি বিভাগের (ইংরেজি, পরিসংখ্যান, পদার্থবিজ্ঞান) এবং বৃহস্পতিবারে (২৭ জুন) অনুষ্ঠিতব্য কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক পদের নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, 'নতুন নিয়োগ বন্ধ করার দাবির পেছনে অনেকগুলো প্রেক্ষাপট আছে। এখানে যেসব নিয়োগ কার্যক্রম হচ্ছে সেগুলোর কিছু অভিন্ন নীতিমালা পাশ হওয়ার আগে হয়েছে। সেখানে তো অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নের কোন কারণ নেই। এছাড়া অভিন্ন নীতিমালাও তিনি নিজ ক্ষমতাবলে পাশ করিয়েছেন। উনি যদি আলোচনার মাধ্যমে এসব সমাধান করেন তাহলে আমরা মানবো। এছাড়া অবৈধ ডিন, চেয়ারম্যানের বিষয় তো আছেই।'

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, 'তিনি (উপাচার্য) এখানে কিছু কমিটি কমিটি খেলছেন। একটার পর একটা কমিটি করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় যে কমিটি হয়েছে, আমরা আস্থা রেখেছিলাম। সেই কমিটি মাত্র দুই দিনে তড়িঘড়ি করে রিপোর্ট দিয়েছে। সেই কমিটি যদি সমাধান করতো, তাহলে আরও ৭-৮টা কমিটি করা লাগতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে উপাচার্য ক্লাস পরীক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেন এখন। উপাচার্য যে সমস্যাগুলো তৈরি করেছেন সেগুলো আগে সমাধান করলে আমরা সবাই মিলে দেখবো বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মিলিতভাবে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। যদি ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়, আমরা সাধারণ সভা ডেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পারি।'

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর চিঠি দেয়। সর্বশেষ ২১ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সেখানেও নতুন নিয়োগ বন্ধের জন্য বলা হয় উপাচার্যকে।

/এমদাদুল/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়