ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আরবী প্রভাষক নিয়োগে বৈষম্য বাতিলের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
আরবী প্রভাষক নিয়োগে বৈষম্য বাতিলের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আওতায় সরকারি ও বেসরকারি কলেজ এবং মাদরাসায় আরবী প্রভাষক নিয়োগে প্রচলিত বিধিমালাকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বিভাগে তালা দেওয়া সহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে এসব দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন আরবি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ খন্দকার। এ সময় বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল মুক্তাদির, আহমেদ উল্লাহ, সায়মা আলীসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আবু উবাইদা বলেন, “বাংলা ও ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়ে প্রভাষক পদের জন্য চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, আরবি বিষয়ের ক্ষেত্রে মাস্টার্স বা কামিল ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।” এটি একটি দ্বিমুখী নীতি এবং আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সনদের মর্যাদাহানির শামিল। তিনি সব বিষয়ের জন্য একই মানদণ্ড প্রবর্তনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরবী প্রভাষক নিয়োগ সংক্রান্ত তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

প্রথম দাবিতে তারা বলেন, অন্যান্য বিষয়ের মতো আরবি বিষয়েও চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিকে প্রভাষক পদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

আবু উবাইদা বলেন, “অন্যান্য বিষয়ে কেবল অনার্স পাস করেই প্রভাষক হওয়া সম্ভব হলেও আরবির ক্ষেত্রে মাস্টার্স বা কামিল চাওয়া হচ্ছে, এটি স্পষ্ট বৈষম্য।”

দ্বিতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান বিধিমালার কারণে মাদরাসা বোর্ড থেকে দাখিল পাস করে কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবিতে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। অথচ একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থী আরবি প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিসিএসে যোগ্য হলে এনটিআরসিএতে অযোগ্য হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা যোগ্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরবি প্রভাষক পদে আবেদন করতে পারলেও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইসলামিক স্টাডিজে প্রভাষক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অথচ আরবি বিভাগের পাঠ্যক্রমে তাফসির, হাদিস, ইসলামিক দর্শন, অর্থনীতি ও ইতিহাসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অবস্থায় উভয় বিভাগের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত অথবা বিষয়ভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আবু উবাইদা বলেন, আরবি বিভাগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তিনি অতীতের ‘ফ্যাসিবাদী আমলে’ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য শোকজের মতো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের বৈষম্য আর মেনে নেওয়া হবে না। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমমানের ডিগ্রি অর্জনের পর কেবল বিষয়ভিত্তিক পার্থক্যের কারণে এমন অযৌক্তিক শর্ত আরোপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে এই বিধিমালা সংশোধন করে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়