ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকাই সিনেমার রাজকন্যা ববিতার ঝুলিতে এবার একুশে পদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:২৮, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকাই সিনেমার রাজকন্যা ববিতার ঝুলিতে এবার একুশে পদক

ববিতা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা এবার পাচ্ছেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক। তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

আরো পড়ুন:

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ববিতা বলেন, “এটা শুনে ভালো লাগলো।” এরপর তিনি জানান, একুশে পদকপ্রাপ্তির খবর এখনো তিনি পাননি বা প্রজ্ঞাপনও তার চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে ববিতা বলেন, “অফিশিয়াল চিঠিটি পেয়ে নিই, তারপর একুশে পদক পেয়ে কেমন লাগছে, সেটা জানানো সমীচীন মনে করছি।”

ববিতার প্রকৃত নাম ফরিদা আক্তার। তবে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে চিরকালই ‘ববিতা’ নামেই পরিচিত। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত প্রায় তিন দশক ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। শরীরি সৌন্দর্য, অভিনয়দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি জয় করে নেন কোটি দর্শকের হৃদয়। 

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই যশোরে জন্মগ্রহণ করেন ববিতা। চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল তার আগ্রহ। তার বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা দুজনই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সিনেমার পরিবেশে বেড়ে ওঠা ববিতার জন্য রুপালি পর্দায় আসাটা যেন ছিল সময়ের স্বাভাবিক পরিণতি। 

ছোটবেলায় বড় বোন সুচন্দার সঙ্গে শুটিং দেখতে যেতেন ববিতা। পরে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এরপর প্রয়াত কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের চলচ্চিত্র ‘জ্বলতে সূর্য নিভে গেছে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় ববিতার উজ্জ্বল অভিনয় জীবন। 

ববিতা একাধিকবার জানিয়েছেন, বিশ্ববরেণ্য নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘অশনি সংকেত’ তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ। এছাড়াও ‘সারেং বৌ’, ‘নয়নমণি’, ‘বসুন্ধরা’সহ বহু সিনেমার চরিত্র আজও দর্শক হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে। 

স্মৃতিচারণ করে ববিতা বলেছিলেন, “অশনি সংকেত’ সিনেমার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলাম। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি প্রশংসিত হয়। সেই অভিজ্ঞতা আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।” 

ইউনেস্কো ও ইউনিসেফের বিভিন্ন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন ববিতা। বর্তমানে একমাত্র সন্তানকে নিয়েই পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সময় ভাগ করে থাকেন বাংলাদেশ ও কানাডায়।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়