ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে’

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৯:০১, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
‘ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে’

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ভুটানের প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে উভয় দেশে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ‘তৃতীয় দেশের মধ্যে দিয়ে ভুটানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালুর ফলে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হবে। সৈয়দপুর আঞ্চলিক বিমানবন্দর এবং বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভুটানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব দেব দাশো কর্মা শেরিনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) নূর মো. মাহবুবুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ-ভুটান সচিব পর্যায়ের অষ্টম সভায় যোগ দিতে ঢাকায় এসেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভুটান বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভুটান প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, বাংলাদেশ তা সব সময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। বাংলাদেশ ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান বন্দর ঘোষণা করেছে এবং এর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ নিতে পারে ভুটান। বাংলাদেশে এ বিষয়ে উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা আছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। গত ১ জুলাই উভয় দেশ প্রয়োজনীয় এসআরও জারি করেছে। এ চুক্তির ফলে ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে এবং বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। এর ফলে উভয় দেশের মধ্যে প্রত্যাশিত হারে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, ঢাকায় গত ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভুটান সচিব পর্যায়ের ৮ম সভা হয়। সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ নেতৃত্ব দেন। ভুটানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব দেব দাশো কর্মা শেরিন ভুটানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

সভায় ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন জোরদার করতে বাংলাদেশ-ভুটান ট্রানজিট এগিমেন্ট ও প্রটোকল চূড়ান্তকরণ এবং বাংলাদেশ-ভুটান এগ্রিমেন্ট ও প্রটোকলের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, তৃতীয় দেশের মধ্যদিয়ে যোগাযোগ সহযোগিতা ও বাণিজ্য সহজিকরণ সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে উভয় দেশের পারস্পরিক  সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্প খাতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাণিজ্য ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, ভুটান থেকে পাথর আমদানি এবং সোনাহাট শুল্ক বন্দরের মাধ্যমে ভুটানের পণ্য পরিবহণ নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়গুলো নিয়ে উভয় দেশ আন্তরিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সচিব পর্যায়ের ৯ম সভা ভুটানে হবে।

হাসনাত/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়