ঢাকা     রোববার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪৩০

‘মনিটরিংয়ে ব্রোকারেজ হাউজের ঘাটতি ধরা পড়ে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩  
‘মনিটরিংয়ে ব্রোকারেজ হাউজের ঘাটতি ধরা পড়ে’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. আব্দুল হালিম বলেছেন, মনিটরিংয়ের ফলে যেসব ব্রোকারেজ হাউজ সামান্য ঘাটতিতে আছে, তা নজরে আসে। এর ফলে ঘাটতি অতিক্রম করার সুযোগ পাওয়া যায়৷ অন্যথায় সামান্য ঘাটতিগুলো যখন বড় আকার ধারণ করে, তখন সেটা আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। ফলশ্রুতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, যা আমরা চাই না৷

ঢাকা স্টক আয়োজিত ডিএসই’র ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারস, চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জন্য ‘Strengthening the Securities of Fund and Securities of Investors” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী (২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০২৩) সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আব্দুল হালিম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করাই হচ্ছে বিএসইসির লক্ষ্য৷ এই লক্ষকে এগিয়ে নিতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য যেকোনো ভালো পরামর্শকে বিএসইসি স্বাগত জানায়৷ পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাই৷ কিন্ত ক্ষেত্রবিশেষে কঠোরও হতে হয়৷ যিনি অনিয়ম করবেন বা পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবেন তারা শুধু নিজের ক্ষতিই করেন না, তাদের কারণে সমগ্র পুঁজিবাজারই ক্ষতিগস্ত হচ্ছে৷ তারা কোনভাবে পুঁজিবাজারের বন্ধু হতে পারে না৷ তাদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যেটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন, কমিশন ততটুকু ভূমিকা পরিপালন করবে৷ তবে এ পথে আমরা আদৌ যেতে চাই না, আমরা বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে পুঁজিবাজার উন্নয়নকল্পে কাজ করে যেতে চাই৷ ট্রেকহোল্ডারদের অনেকে দেশে থাকেন না। তাদের বিশ্বস্ত কর্মচারীর মাধ্যমে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলশ্রুতিতে কিছু সমস্যা ও অনিয়ম দেখা দেয়৷ এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্টক এক্সচেঞ্জের কিছু ট্রেকহোল্ডার কোম্পানি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে৷ বিএসইসিও চায় এসব পরিস্থিতি থেকে যাতে তাদের দ্রুত উত্তরণ ঘটে৷ আইনে যে মনিটরিং এবং এনফোর্সমেন্ট করতে বলা হয়েছে, সেটা কমিশনের দায়িত্ব৷ আর কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে বলব যদি আপনারা সব কিছু সঠিকভাবে মেনে চলেন, তবে কমপ্লায়েন্সের প্রয়োজন পড়বে না৷ যে রুলস, রেগুলেশনগুলো এসেছে, আমাদের উদ্দেশ্য হল কর্মশালার মাধ্যমে আপনাদের এই রুলস এবং রেগুলেশনগুলো জানানো যাতে আপনারা ভুলগুলো শোধরানোর মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং অবদান রাখতে পারেন৷

কমিশনার আরও বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়গুলো ট্রেক-হোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে তা আমাদের জানান৷ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি আপনাদের স্বার্থ যাতে সংরক্ষিত হয় সেই বিষয়টিও আমরা দেখব৷ প্রতিকূল পরিবেশের একটা ইতিবাচক দিক হলো অনেক ভালো ভালো উদ্ভাবনী বিষয়বস্তু এর মাধ্যমেই আসে৷ এই প্রতিকূল পরিবেশকে অতিক্রম করার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা কমিশন গ্রহণ করবে৷

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসই’র চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান৷ স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এই সচেততামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে৷ এই কর্মশালার বিষয়বস্তু অত্যন্ত সময়োপযোগী৷ সিকিউরিটিজ হাউজকে পরিচালনা করতে আইনকানুনগুলো কিভাবে প্রতিপালন করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আজকের এই আলোচনা৷ পুঁজিবাজারে প্রচুর আইনকানুন হয়েছে৷ আইন-কানুন ঠিকমতো পরিপালন না করলে পুঁজিবাজারে সু-শাসন নিশ্চিত হবে না৷

তিনি আরও বলেন, বিএসইসি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বিভিন্ন আইন-কানুন, বিধি-বিধান প্রণয়ন করে থাকেন, এই আইন-কানুন, বিধি-বিধান পরিপালন আমাদের করতে হয়। পুঁজিবাজারের ইমেজ ট্রেকহোল্ডারদের উপর নির্ভর করে। কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আপনাদের কাছে আসে। কমিশন এবং এক্সচেঞ্জের সাথে তাদের সরাসরি যোগাযোগ খুবই কম হয়। আপনারা যদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে পারেন, তবে কমিশন এবং স্টক এক্সচেঞ্জ উভয়েই নিশ্চিত থাকতে পারেন।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার এবং অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম আজাদ৷ কর্মশালায় পেপার উপস্থাপন করেন ডিএসই’র মহাব্যবস্থাপক এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমান৷

/তানিম/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়