ঢাকা     শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩১

‘যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী’ 

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ২৮ মে ২০২৪   আপডেট: ১৮:৪২, ২৮ মে ২০২৪
‘যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী’ 

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু (ফাইল ফটো)

অ্যামাজন, বোয়িং, শেভরন, কোক, টেলকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চায় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু৷ 

মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা জানেন, অ্যামাজন সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফার্ম৷ আমরা সেন্টার ওয়্যারহাউস তৈরি করব৷ তারা সেখান থেকে পণ্যগুলো সংগ্রহ করবে৷ এরপর তারা সেগুলো আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিক্রি করবে৷

তিনি বলেন, যেসব ইউএস কোম্পানি বাংলাদেশে অপারেট করে, তারা যেন সহজে ব্যবসা করতে পারে, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি৷ ব্যবসায় যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

‘নতুন নতুন আমেরিকান কোম্পানি, যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী, যেমন: আজকে অ্যামাজন আসছিল৷ তারা কীভাবে বাংলাদেশের পণ্য এখানে যুক্ত করতে পারে, কীভাবে বাংলাদেশের মার্কেট এই গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হতে পারে, এই সুযোগ-সুবিধাগুলো আমাদের এখানে আসতেছে,’ বলেন আহসানুল ইসলাম টিটু৷

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ৯০ ভাগ ব্যবসা কিন্তু গার্মেন্টসে৷ এখানে কিন্তু গার্মেন্টসের কেউ ছিলো না৷ তারা মূলত এ দেশের ই-কমার্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ই-কমার্স বিজনেস থেকে শুরু করে এ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছে৷

তিনি বলেন, এখানে শেভরনের প্রতিনিধি ছিল৷ টেলকোর প্রতিনিধিরা ছিল৷ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম মাস্টার কার্ড ও ভিসা কার্ডের প্রতিনিধিরা ছিল৷ এখানে স্টার্টআপ পর্যায় থেকে আরম্ভ করে একেবারে বোয়িং পর্যন্ত তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল৷ মূলত, এখানে তিনটি জিনিস কাজ করবে, সেগুলো হচ্ছে—বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন মার্কেট একসেস নিয়ে কাজ করছে৷ এই মার্কেট একসেসটা ইজিয়ার হবে যদি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ফর স্ট্র্যাটেজিক গ্রোথের’ সাজেশনগুলো এডাপ্ট করতে পারি৷ ইউএসএর যে ইনভেস্টমেন্ট, সেটা আরও সহজে কীভাবে বাংলাদেশে আসবে৷ সে বিজনেসটা যেন ইনোভেশনের মধ্যে থাকে এবং আমাদের মূল টার্গেট এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশনে হেল্প করে৷ সবশেষে বাংলাদেশ এবং ইউএসএর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করণ,’ বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী৷ 

তিনি বলেন, আমরা কটন নিয়ে কথা বলেছি৷ আমরা ইউএস কটনের বড় আমদানিকারক দেশ৷ সেই ইউএস কটন থেকে তৈরী করা পণ্য কীভাবে মার্কেট একসেস পেতে পারে, সেজন্য তারা কাজ করবে৷ 

বাংলাদেশ এমন কোনো পলিসি করবে কি না, যার মাধ্যমে দেশের বাইরে ট্রানজেকশন করা যায়? এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই৷ আমরা সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবো৷

তিনি বলেন, আমাদের নেগেটিভ কোনো আলোচনা হয়নি, সব পজিটিভ আলোচনা হয়েছে৷ আমরা একক কোনো কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রমোশনের জন্য এখানে বসিনি৷ তারা (ইউএসএর প্রতিষ্ঠানগুলো) ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এসেছেন৷ তারা আমাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চায়৷ তারা তাদের কোনো ব্যবসায়িক লাভ আলোচনা করেনি, বরং তারা আমাদের আর্থ-সামাজিক ব্যবসায়িক পরিবেশ কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা করেছে৷ একই সাথে আমাদের দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ কীভাবে ভালো করা যায়, সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

কিছু কিছু মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে সোস্যাল বিজনেস গুরুত্বপূর্ণ নাকি যারা বড় বিনিয়োগ থেকে মুখ ফেরাচ্ছে তাদের ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দেশের মার্কেট যেখানে একসেস পাবে এবং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেট যারা আগ্রহ নিয়ে আমাদের দেশে আসবে, যেমন: ফেসবুক, অ্যামাজন, শ্যাভরন, কোক, বোয়িং। তারা যদি বাংলাদেশের বিজনেস ভ্যালু এডিশনের সাথে যুক্ত হয়, তাহলে দেশ সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে পথ, সেটা সহজ হবে৷

তিনি বলেন, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্য এলডিসি থেকে ডেভেলপিং কান্ট্রিতে উন্নীত হবো৷ এই দুই বছরের মধ্য বিভিন্ন দেশের মার্কেটে একসেস পেতে চাই৷ এ ক্ষেত্রে ইউএস-বাংলার যে বিজনেস কাউন্সিল, মার্কেট একসেস কর্পোরেট কাউন্সিলের সাথে সংযুক্ত করার জন্য তারা আমাদের দেশে এসেছে৷ এ ধরনের বড় কোম্পানি যখন কোনো চেম্বারের মাধ্যমে আসে, বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যৎ দেখেই আসে৷

তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করব, কীভাবে আমাদের পলিসি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে পারি৷ এ দেশে আগামী পাঁচ বছর একটা স্থিতিশীল সরকার থাকবে এবং আগামী পাঁচ বছর তারা উন্নয়নে কাজ করবে, সেই মানসিকতা নিয়েই তারা এখানে এসেছে৷ তাদের আসার মাধ্যমে আমাদের নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন কোম্পানি এ দেশে আসার পথ উন্মুক্ত হবে৷ 

হাসনাত/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়