ঢাকা     শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩১

‘আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে’

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ২৮ মে ২০২৪  
‘আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে’

পিকেএসএফ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান

আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান।  

মঙ্গলবার (২৮ মে) ঢাকায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে প্রমোটিং অ্যাগ্রিকালচারাল কমার্শিয়ালাইজেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস (পেইস) প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইফাদ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আর্নড হ্যামেলিয়ার্স। স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. নমিতা হালদার। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের প্রকল্প উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা রয়েছে। সেগুলো থেকে বাংলাদেশ বাইরে নয়। কৃষিজাত পণ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সার, বীজ ও সেচের বিদ্যুতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হয়। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতিতে বিশ্বে রোল মডেল। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষক, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের সহায়তায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী বাজেটে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকছে। 

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ, যেখানে মাথাপিছু বৃদ্ধি পাবে এবং চরম দারিদ্র্যের অবসান হবে। পিকেএসএফ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা অর্জনে বরাবরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পিকেএসএফ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই পন্থায় দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অর্থনেতিক মুক্তির কথা আমাদের বলেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পিকেএসএফ কাজ করছে। পেইস প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এ প্রকল্পের উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রম, অর্জন, সাফল্য ও অভিজ্ঞতা অভিনব উন্নয়ন কৌশল ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রণয়নে সহায়ক হবে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু গ্রামভিত্তিক বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশে ফিরে আসেন। তিনি সেদিন না আসলে আজকের বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। সেদিন মৃত্যুর ভয়কে তুচ্ছ করে তার ফিরে আসার কারণেই আজ বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা। 

হাসনাত/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়