ঢাকা     সোমবার   ১১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘টিসিবিকে প্রশ্নহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২২, ১১ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৪, ১১ মে ২০২৬
‘টিসিবিকে প্রশ্নহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে’

সোমবার টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  

সোমবার (১১ মে) আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।  

আরো পড়ুন:

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে কার্যকর হতে না পারে, সে জন্য সরকার কৌশলগত মজুত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ এবং টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ”

তিনি জানান, নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সারা দেশে নিয়মিত ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিশেষ উৎসবে ট্রাকসেল পরিচালনা করা হচ্ছে।  

মন্ত্রী বলেন, “গত রমজানে ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছানো হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। গত ঈদুল আজহায় ১০ হাজার ৯০০ টন পণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টন করা হয়েছে। ”

“দেশের যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল চালু থাকবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত,” বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  

তিনি আরো জানান, আগের এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাই করে এখন স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।  

টিসিবির ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, “টিসিবির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।”  

কারসাজি ঠেকাতে নির্বাচিত কিছু নিত্যপণ্যের রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণে আনা হবে। এতে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।  

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় কিছু বড় ব্যবসায়ী এ খাতে সক্রিয় থাকেন। সরকার এমন অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়তে চায়, যাতে আরো উদ্যোক্তা অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।”  

“এই সরকার জনগণের পক্ষে বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য—বাজার হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং কারসাজিমুক্ত,” বলেন তিনি।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রুটিন দায়িত্ব মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে মন্ত্রী ক্রেতাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়