নাটকীয় ভিএআরে বেঁচে গেল আর্সেনাল
লন্ডন স্টেডিয়ামের শেষ বাঁশি বাজার পরও থামেনি বিতর্ক। নাটকীয় এক সিদ্ধান্তে শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল হওয়ায় শিরোপার লড়াইয়ে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে আর্সেনাল। আর সেই সিদ্ধান্তকেই প্রিমিয়ার লিগের ভিডিও সহকারী রেফারির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিল।
ওয়েস্ট হ্যামের মাঠে ম্যাচজুড়ে জমাট লড়াইয়ের পর ৮৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। সেই এক গোলের লিড নিয়েই এগোচ্ছিল মিকেল আর্তেতার দল। কিন্তু যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে কর্নার থেকে বল পেয়ে জাল কাঁপান ক্যালাম উইলসন। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকেরা। মনে হচ্ছিল, শিরোপা দৌড়ে বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে আর্সেনাল।
তবে গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন আর্সেনালের খেলোয়াড়েরা। বিশেষ করে গোলরক্ষক ডেভিড রায়া দাবি করেন, বল ধরতে যাওয়ার সময় তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পুনঃপ্রচারে দেখা যায়, ওয়েস্ট হ্যামের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় পাবলো রায়ার হাত চেপে ধরেছিলেন। ফলে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান স্প্যানিশ গোলরক্ষক, আর সেই সুযোগেই বল পৌঁছে যায় উইলসনের কাছে।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। ভিডিও সহকারী রেফারি ড্যারেন ইংল্যান্ড মাঠের রেফারি ক্রিস কাভানাকে মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন। কয়েক দফা রিপ্লে দেখার পর শেষ পর্যন্ত গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন কাভানা। আর সেই মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য।
ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে গ্যারি নেভিল বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত প্রিমিয়ার লিগের ভিডিও সহকারী রেফারির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’’ তার মতে, যদি আর্সেনাল শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতে, তাহলে এই ম্যাচ বহু বছর ধরে ক্লাবটির ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে থাকবে। ২২ বছর পর লিগ শিরোপার স্বপ্ন পূরণের পথে এটি বিশাল এক ধাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক আর্সেনাল তারকা ইয়ান রাইটও নেভিলের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তার মতে, রায়াকে স্পষ্টভাবেই ফাউল করা হয়েছিল এবং বাধা না পেলে তিনি সহজেই বলটি ধরতে পারতেন। ভিডিও সহকারী রেফারি নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এমন উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত এসেছে বলেই মনে করেন তিনি।
স্টুডিও আলোচনায় যোগ দিয়ে সাবেক অধিনায়ক রয় কিনও বলেন, কর্নারের সময় গোলরক্ষকের গায়ে হাত দেওয়া সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কয়েক সেকেন্ড ধরে হাত আটকে রাখলে ভিডিও সহকারী রেফারি সেটি খুঁটিয়ে দেখবেই। তার মতে, গোলরক্ষক সরাসরি খেলায় প্রভাবিত হওয়ায় এটিকে ফাউল ধরা ছাড়া উপায় ছিল না।
ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা রেফারিদের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমালোচনা করার সময় যেমন করেছেন, তেমনি সঠিক সিদ্ধান্ত এলে প্রশংসাও করতে হবে। তার ভাষায়, ঘটনাটি স্পষ্ট ফাউল ছিল এবং নিয়ম অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ওয়েস্ট হ্যাম শিবিরে ছিল ভিন্ন সুর। দলের অধিনায়ক জ্যারড বাউনের দাবি, এতক্ষণ ধরে রিপ্লে দেখলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই কিছু না কিছু ধরা সম্ভব। তার মতে, সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি।
এই জয়ের ফলে শিরোপা দৌড়ে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে আর্সেনাল। ২ ম্যাচ হাতে রেখে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে আছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। যদিও সিটির হাতে এখনও একটি ম্যাচ বাকি। এখন বার্নলি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে শেষ ২ ম্যাচ জিতলেই ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের মুকুট উঠবে আর্সেনালের মাথায়।
ঢাকা/আমিনুল