ঢাকা     সোমবার   ১১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নবান্নে পা রেখেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ১১ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:৩২, ১১ মে ২০২৬
নবান্নে পা রেখেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর, আজ সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে প্রবেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

সকাল থেকে একের পর দলীয় কর্মসূচি সেরে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুভেন্দু পৌঁছান নবান্নতে। সেখানেই তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। তারপরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাসহ একাধিক ইস্যুতে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

আরো পড়ুন:

ইতিমধ্যেই বৈঠকের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ , রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-এর সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলাম।”

“পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।”

সোমবার নবান্নে এরপর আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টায় নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ১টা নাগাদ বৈঠক শুরু করেন ২৩ জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে। এরপর বিকেল ৪টায় নবান্নে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। যদিও তার আগে শুভেন্দু অংশ নেন সাংবাদিক সম্মেলনে। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু। 

সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই শুভেন্দু বলেন, “আপনারা যে গুরুদায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে দিয়েছেন, তা সংবিধানপ্রণেতা আম্বেদকরের ভাষায় বলতে চাই- ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অব দ্য পিপল হিসেবে চলবে। আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।” 

এসময় তিনি আরো বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখল দেশের মানুষ। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সব প্রার্থীদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই ৩২১ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

এরপরেই শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আজ থেকেই জমি ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে ততটা জমি দেওয়া হবে। আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। আমরা ভূমি দপ্তরকে আজ থেকেই রেডি থাকা জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি।”

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেগুলো এতদিন রাজ্য সরকার যুক্ত হয়নি, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন প্রথম ক্যাবিনেটের বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারতে আমরা যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলাম। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের জন আরোগ্য যোজনা, ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “রাজ্য সরকারি অফিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের সর্বোচ্চ সীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ জুনে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জনগণনার জন্য যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, বিগত সরকার সেই ফাইল ফেলে রেখে ছিল। এরা শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, বরং দেশের সঙ্গে ও দেশের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদের মূল লক্ষ্যই ছিল এই জনগণনা আটকে দিয়ে নারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। জনগণনার কাজ আমরা আজ থেকেই শুরু করতে যাচ্ছি।”

শুভেন্দু আরো বলেন, “আমাদের কিছু পেপার ওয়ার্কের প্রয়োজন আছে। আমাদের সংকল্পপত্রে যে ঘোষণাগুলো করেছিলাম সেই বিষয়ে আরো কিছু সিদ্ধান্ত আমরা পরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেব। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’ নীতিতে চলবে। বেঁচে থাকা চার-পাঁচ পার্সেন্ট সমালোচক, তারাও যেন কোনো সমালোচনা করতে না পারে, আমরা তেমনভাবেই কাজ করব। আমাদের ওপর ভরসা রাখুন, আমরা ঠিক পথেই চলব।”

ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়