নেগেটিভ ইক্যুইটি
ছয় প্রতিষ্ঠানের প্রভিশনের সময়সীমা বেড়েছে, নামঞ্জুর চারটি
পুঁজিবাজারের বাজার মধ্যস্থতাকারী ছয়টি ব্রোকারেজ হাউজের নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ এবং সমন্বয় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের সমন্বয় সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চারটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণ ও সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ১০ ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছিল। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্ষদ অনুমোদিত অ্যাকশন প্ল্যানের (কর্মপরিকল্পনা) আলোকে নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষে ছয়টি ব্রোকারেজ হাউজের নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড ক্ষতি সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও তাদের সময়সীমা হলো-সিনহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০৩০ সাল, ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০৩০ সাল, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০৩০ সাল, ইসলামী ব্যাংক ক্যাপিটাল ২০৩০ সাল, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল ২০৩০ সাল, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২০৩০ সাল।
অন্যদিকে, চারটি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া অ্যাকশন প্ল্যান সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম হলো-আভিভা ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল এবং ম্যানেজমেন্ট ও এ এ সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছয়টি স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার কর্তৃক কমিশনের কাছে দাখিলকৃত বোর্ড অনুমোদিত কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ এবং সমন্বয় করার সময়সীমা কমিশনের গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে জারিকৃত নির্দেশনার শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে প্রভিশন রাখার সময়সীমা বাড়ানো হলো।
নির্দেশনায় আলো বলা হয়, চারটি মার্চেন্ট ব্যাংকের দেওয়া কর্ম পরিকল্পনা বিবেচনাযোগ্য না হওয়ায় নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লস এর বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ এবং সমন্বয় করার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমেডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বিষয়টি পুঁজিবাজারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়সীমা বৃদ্ধি দেওয়া হলেও কমিশন কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখছে। সময় বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্বল অ্যাকশন প্ল্যান প্রত্যাখ্যান করা কমিশনের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানকে আরো স্পষ্ট করেছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের দ্রুত সমন্বয় করতে না পারলে তা বাজারে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে তাদের সময়সীমা বাড়ানো হলেও, দুর্বল বা অস্পষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণযোগ্য হয়নি।”
বিনিয়োগকারীদের প্রদান করা মার্জিন ঋণের বিপরীতে আদায় না হওয়া অনাদায়ী ক্ষতি (নেগেটিভ ইক্যুইটি) দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম একটি বড় সমস্যা। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রভিশনিং বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি বাদে পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পর থেকে এ সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। গত ১৫ বছরের পুঞ্জিভূত এ সমস্যা এখন বোঝায় পরিণত হয়েছে। তাই এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরামর্শে কাজ করছে বিএসইসি।
ঢাকা/এনটি/এসবি