ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯ ||  ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

ফেল করায় ২৩ শিক্ষার্থীকে টিসির সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫১, ১৭ জানুয়ারি ২০২২  
ফেল করায় ২৩ শিক্ষার্থীকে টিসির সিদ্ধান্ত

রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ২৩ শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির এসব শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষার অকৃতকার্য হয়েছে। পরে আবার পরীক্ষা নেওয়া হলেও তাতে উত্তীর্ণ হতে না পারায় ফেল করাদের টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোস সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ক্লাস শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নথি থেকে তাদের নাম কাটা হয়েছে। আসনও শূন্য হওয়ার কথা।

ফেল করা ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির ৯ জন রয়েছে। এছাড়া সপ্তম শ্রেণিতে একজন, বাকিরা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করে নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলের স্বশরীলে ক্লাস বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলেছে। কিন্তু সরাসরি যে সংখ্যাক ক্লাস হয়েছে, তাতেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ হয়নি।  ৫৬ জনের মধ্যে প্রথম পরীক্ষায় ৪১ জন ফেল করে। এরপর ফের পরীক্ষা নিলে ১৩ জন ফেল করেছে। মূলত ঠিকমতো লেখাপড়া না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর দায় যদি শিক্ষার্থীর থাকে, তাহলে স্কুলেরও থাকার কথা।

আরেকজন অভিভাবক বলেন, আসলে স্কুল বা শিক্ষার্থী করো এ দায় না দিলে এখন ঠিকমতো পড়ালেখা হওয়া দরকার। এ কাজটি করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সে সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ না নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তায়েফ উল হক বলেন, এক ক্লাসে শিক্ষার্থীর দুই বছর থাকার নিয়ম নেই। করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েছি। সেখানে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করে। তাদের পরবর্তী দুই সপ্তাহ বিশেষ ক্লাস করিয়ে আবারো রি-টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। সে পরীক্ষার ফেল করাদের ৬০ শতাংশ পাস করলেও ২৩ জন ফেল করায় তাদের টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা বার্ষিক পরীক্ষায় সব বিষয় বাদ দিয়ে শুধু বাংলা, ইংরেজি ও অংক বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। যারা ফেল করেছে তারা নিয়মিত পড়ালেখা করেনি বলে দুই দফায় পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারেনি।

/ইয়ামিন/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়