ঢাকা     শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭ ||  ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সালমান শাহর প্রিয় মতি ভালো নেই

রাহাত সাইফুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৩, ১৪ জুলাই ২০২০  
সালমান শাহর প্রিয় মতি ভালো নেই

‘গত কয়েকমাস ধরে কাজকর্ম নেই। এফডিসি থেকে কিছু ত্রাণ পেয়েছিলাম, তা দিয়ে কোনোরকম খেয়ে বেঁচে আছি। পাঁচ মাসের বাসা ভাড়া বাকি। প্রত্যেকদিন বাসায় ঢুকলেই বাড়িওয়ালার বাজে কথা নীরবে শুনে যাচ্ছি। বাসায় পাঁচ কেজি চাল ছাড়া আর কিছু নেই। কীভাবে চলবো বুঝতেছি না। অন্য কোনো কাজও পাচ্ছি না। আজ সালমান ভাই (সালমান শাহ) বেঁচে থাকলে আমার এই দশা হতো না।’—রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে নিজের অসহায়ত্বের কথা এভাবেই বলেন প্রোডাকশন বয় মতিউর রহমান মতি।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এফডিসিতে পা রাখেন মতি। বয়ের কাজ করে কোনোমতে চলে তার সংসার। নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ অভিনীত ‘স্নেহ’ সিনেমার প্রোডাকশন বয়ের কাজ করেন মতি। মতির বয়স তখন ১২ বছর। প্রথম দিন পানি দিতে গেলে নাম জানতে চান সালমান শাহ। সেদিনই এই নায়কের সঙ্গে মতির প্রথম আলাপ। এরপর থেকে মতিকে সঙ্গেই রাখতেন সালমান শাহ।

করোনার এই দুর্দিনে সালমান শাহর অভাব অনুভব করছেন মতি। তার ভাষায়—‘আমার একবার জ্বর হয়েছিলো, খবর শুনে সালমান ভাই আমার বাসায় এসেছিলেন। ভাই বেঁচে থাকলে আমার অভাবে থাকতে হতো না। এখনকার কোনো শিল্পী আমার খোঁজ নেয় না।’

এক ঘটনা বর্ণনা করে মতি করে বলেন, ‘‘এফডিসির কাছে ভাড়া বাসায় থাকতাম। জ্বর হওয়ার কারণে কয়েকদিন এফডিসিতে যেতে পারিনি। কয়েকদিন না দেখে ভাই খবর নিয়ে জানতে পারেন—আমার জ্বর। খবর শুনে রাতে আমার বাসায় চলে আসেন। এসে অনেক রাগ করলেন। কারণ আমি ভাইকে কেন খবর দিইনি। ভাই তখন ‘পিয়াসী’ সিনেমার শুটিং করছিলেন। এত ব্যস্ততার মাঝেও আমার বাসায় আসছিলেন। যখন যা চাইতাম তাই দিতেন।’’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাই আমাকে খুব পছন্দ করতেন। আদর করতেন। আমি দেখতে মোটেও সুন্দর না, অপরিচ্ছন্ন ছিলাম। তারপরও ভাই আমাকে তার কাছে ডাকতেন। আমি গোসল কম করতাম বলে তিনি আমাকে জোর করে গোসল করিয়ে দিতেন। মাঝে মাঝে শরীর মুছেও দিতেন। ভাই অনেক সময় আমার পাশেই ঘুমিয়ে পড়তেন।’

মতির বয়স এখন ৩৭ বছর। তার মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ে। ছেলের বয়স চার বছর। পরিবার নিয়ে মগবাজারের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। করোনার কারণে চলচ্চিত্রের কোনো কাজ নেই। কর্মহীন মতির অভাব-অনটনে দিন কাটছে।

মতি বলেন, ‘শাবনূর আপাও আমার খোঁজ-খবর নিতেন। তিনি দেশে থাকলে তাকে ফোন দিতাম। তিনিও দেশে নেই। তাই আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি কাজের কথা চলছে। সেগুলো হলে সমস্যা কিছুটা কমবে।’


ঢাকা/রাহাত সাইফুল/শান্ত

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়