আমিরের ‘টাইম মেশিন’ কেন আলোর মুখ দেখেনি?
বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান। অভিনয় ক্যারিয়ারে অসাধারণ সব সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সময়ের সঙ্গে অনেকটাই বদলে গেছে। প্রযুক্তিনির্ভর অনেক সিনেমাও নির্মিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে সায়েন্স ফিকশন ঘরানার ‘টাইম মেশিন’ সিনেমায় যুক্ত হয়েছিলেন আমির খান। বড় বাজেটের এ সিনেমার কাজ অনেক দূর এগিয়েছিল। তারপরও সিনেমাটির কাজ থমকে যায়। আজ পর্যন্ত সেই সিনেমা আর আলোর মুখ দেখেনি। চলুন জেনে নিই, কেন বন্ধ হয়ে যায় সিনেমাটির কাজ—
অসমাপ্ত ‘টাইম মেশিন’
১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় হলিউড সিনেমা ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’। রবার্ট জেমেকিস নির্মিত এই সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতীয় পরিচালক শেখর কাপুর ‘টাইম মেশিন’ সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সায়েন্স ফিকশন ঘরানার এ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে কাস্ট করেন আমির খানকে। শুটিং শুরু করেন নির্মাতারা। কিন্তু তা শেষ হয়নি। বড় বাজেটের সিনেমাটি টাইম-ট্রাভেল ঘরানার ছিল। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যা বড় একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কাহিনি ও অভিনয়শিল্পীরা
অনাথ একটি ছেলেকে ঘিরে গড়ে উঠে ‘টাইম মেশিন’ সিনেমার গল্প। এই অনাথ ছেলের চরিত্রে কাস্ট করা হয় আমির খানকে। এই অনাথ ছেলে টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে অতীতে ফিরে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে। একজন বিজ্ঞানী এই টাইম মেশিন উদ্ভাবন করেন। এই বিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করেন বিজয় আনন্দ। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে কাস্ট করা হয়েছিল রাভিনা ট্যান্ডন, রেখা, নাসিরউদ্দিন শাহ, গুলশান গ্রোভারকে। সিনেমাটির সংগীতে পুরোনো ও নতুন ধারার মিশ্রণ করেন সংগীত পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত-প্যায়ারেলাল।
সিনেমার কাজ কেন বন্ধ হয়ে যায়?
‘টাইম মেশিন’ সিনেমার প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ শুটিং শেষ হওয়ার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রধান কারণ ছিল আর্থিক সমস্যা এবং শেখর কাপুরের যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া। পরবর্তীতে ‘অ্যাকশন রিপ্লে’ শিরোনামে বলিউডে টাইম ট্রাভেল ঘরানার একটি সিনেমা তৈরি করা হয়। মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখে। যদিও আশানুরূপ ফলাফল পায়নি।
দ্বিতীয়বার পদক্ষেপ নিয়েও ব্যর্থ
২০০৮ সালে পরিচালক শেখর কাপুর ‘টাইম মেশিন’ সিনেমার কাজ পুনরায় শুরু করার পদক্ষেপ নেন। তবে আমির খানকে নিয়ে নয়, বরং রণবীর কাপুরকে নিয়ে নতুন করে কাজ করার পরিকল্পনা করেন নির্মাতা। তবে নতুনভাবে সাজানো সিনেমাটিও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দ্বিতীয়বার পদক্ষেপ নিয়ে কেন ব্যর্থ হলেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে পরিচালক শেখর বলেছিলেন—“টাইম মেশিন’ এমন একটি সিনেমা যা নির্মাণ করা উচিত ছিল।”
ঢাকা/শান্ত