পুরস্কার পাওয়ার চিন্তা করে কখনো অনুষ্ঠান করিনি: হানিফ সংকেত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পদক গ্রহণ করছেন হানিফ সংকেত
দেশের সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য চলতি বছরে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন হানিফ সংকেত। তিনি বলেন, “এই অর্জনটা আমার একার নয়; যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার। আর তাই আমি পুরস্কারটি আমার প্রিয় দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।”
পুরস্কারের আশায় কখনো কোনো অনুষ্ঠান করেননি হানিফ সংকেত। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পুরস্কার পাওয়ার চিন্তা করে কখনো অনুষ্ঠান করিনি, তাহলে এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হতো না। আমি সব সময় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি আমার দায়বোধ থেকে। ভবিষ্যতেও আমি দায়িত্ব নিয়েই কাজ করে যাব। এই পুরস্কারটি আমাকে আগামীতে এগিয়ে যেতে আরো অনুপ্রাণিত করবে, উৎসাহিত করবে।”
বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব প্রচার হয় ১৯৮৯ সালের মার্চে। এ হিসাব অনুযায়ী অনুষ্ঠানটির বয়স ৩৭ বছর। ইত্যাদির বাইরে হানিফ সংকেত নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটক ‘কুসুম’। এটি পরিচালনা করেন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ। নাটক পরিচালনাও করেন হানিফ সংকেত। এ তালিকায় রয়েছে—‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘শেষে এসে অবশেষে’ প্রভৃতি।
একটি দেশের সংস্কৃতি শুধু মঞ্চে-পর্দায় থাকে না; থাকে ভাষার ব্যবহারেও, হাসির ধরনেও, ব্যঙ্গের ভঙ্গিতেও, আর নৈতিকতার সীমানা আঁকার ক্ষমতাতেও। হানিফ সংকেত চার দশক ধরে সেই সীমানাটাই টেনে চলেছেন-নিজের মতো করে।
শুধু পর্দায় নয়, দুই মলাটেও বন্দি করেছেন হাসি, ব্যঙ্গ। তার রচিত রম্য রচনাগুলো হলো—‘চৌচাপটে’, ‘এপিঠ ওপিঠ’, ‘ধন্যবাদ’, ‘অকাণ্ড কাণ্ড’, ‘খবরে প্রকাশ’, ‘প্রতি ও ইতি’, ‘আটখানার পাটখানা’।
ঢাকা/শান্ত
আজ রাতে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী