ঢাকা     শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩৩ || ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সংকট কাটেনি সয়াবিনের, বাড়তি মুরগি ও ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ১৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১২:৪৪, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সংকট কাটেনি সয়াবিনের, বাড়তি মুরগি ও ডিমের দাম

সয়াবিন তেল। ফাইল ফটো

বাজারে এখন অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট রয়েছে। সয়াবিন তেল সরবরাহকারী বড় কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও সরকার রাজি হয়নি। সরকার দাম না বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের শুল্কছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে। সরকারের এত উদারতা ও আলাপ-আলোচনার মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ না বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

আরো পড়ুন:

আরো পড়ুন: সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি, বুধবার আবার সভা

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। খুচরা পর্যায়ে অধিকাংশ দোকান থেকে উধাও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দোকান ঘুরে পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ফরিদ জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী ফরিদুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমার দোকানে এখন কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। অর্ডার দেওয়া আছে, কিন্তু পাই না। বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেল দাম বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে। তাই আমাদের দেশের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে চাচ্ছে। সরকার দাম বাড়তে রাজি না হওয়াতে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে তারা।” 

আরো পড়ুন: বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত, দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মানুষের বড় সমস্যা হলো যখন শোনে দাম বাড়বে, তখন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নেয়, যার কারণে বেশি সংকট সৃষ্টি হয়।"

বাজারে এখন সরকার নির্ধারিত ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৫৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও এক লিটার ১৯৫ টাকা। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত এই দামে বাজারে তেল মিলছে না। 

বাড়তি মুরগি ও ডিমের দাম: 
সরবরাহের সংকট দেখিয়ে এ সপ্তাহেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। এখন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, সোনালি মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহ ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের। গত সপ্তাহের ফার্মের মুরগির লাল ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা দরে, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা ডজন।

বাজারে এখন মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা, টেংরা ৭০০‌ টাকা, রূপচাঁদা ১৪০০, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এখন প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা। সিম ৭০ টাকা, দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (দেশি) ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ১০০ টাকা, টমেটো ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

কাঁচমরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে সুগন্ধি চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রতি কেজি সুগন্ধি চালে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। এই হিসেবে এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। 

মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

যা বলছে ক্রেতা বিক্রেতারা
রাজধানীর নিউমার্কেট সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হাসান বলেন, “আজকে বাজারে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল পেলাম না। কয়েক দোকান ঘুরে দুই লিটারের দুইটা পেয়েছি। দোকানদারা বলছে, কম্পানিগুলোর দাম বাড়াবে, তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।” 

তিনি বলেন, “ডিমের দামও বেশি দেখলাম। প্রতি সপ্তাহে সোনালী মুরগি নিয়ে যাই, দাম বাড়ার কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফার্মের মুরগি কিনছি।”

একই বাজারের সবজি বিক্রেতা রুবেল হাওলাদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এখন গ্রীষ্মকালীন নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। শীতের কিছু সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে তাই সাধারণত এ সময় সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। দাম আরো কম হত যদি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি না পেত।”

ঢাকা/রায়হান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়