হঠাৎ রাগ বা চুপ হয়ে যাওয়া পুরুষদের নিয়ে মনোবিদদের সতর্কবার্তা
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ রেগে যাওয়া কিংবা অকারণে চুপ হয়ে যাওয়া—এমন আচরণ অনেক পুরুষের মধ্যেই দেখা যায়, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা এখনো খুব কম। মনোবিদরা বলছেন, এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব আচরণের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মুড সুইং বা মানসিক ওঠানামার জটিলতা।
মুড সুইং আসলে মানুষের স্বাভাবিক একটি অভিজ্ঞতা। এটি কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে সাধারণত নারীদের মুড সুইং নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও বাস্তবে পুরুষদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে, অনেক সময় আরও বেশি মাত্রায় দেখা যায়। তবে পার্থক্যটা হচ্ছে—কে কীভাবে নিজের আবেগ প্রকাশ করছেন এবং সমাজ সেটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করছে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে মুড সুইং সবসময় কান্না বা দুঃখ দিয়ে প্রকাশ পায় না। বরং তা প্রকাশ পায় বিরক্তি, হঠাৎ রাগ, অস্থিরতা কিংবা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। ফলে অনেক সময় এই লক্ষণগুলোকে মানসিক সমস্যার অংশ হিসেবে না দেখে ‘স্বাভাবিক’ আচরণ বা কাজের চাপের ফল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এতে প্রকৃত সমস্যাটি অজানাই থেকে যায়।
মনোবিদদের ভাষায়, পুরুষদের এই ধরনের আচরণকে অনেক সময় “ইরিটেবল মেল সিনড্রোম” বলা হয়। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি হঠাৎ করেই খিটখিটে হয়ে ওঠেন, ক্লান্ত বোধ করেন, মনমরা থাকেন, এমনকি হতাশায় ভুগতেও পারেন। গবেষণা বলছে, হরমোনের পরিবর্তন—বিশেষ করে টেস্টোস্টেরনের ওঠানামা—এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরুষদের মুড সুইং অনেক সময় ধরা পড়ে না মূলত সামাজিক ধারণার কারণে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখানো হয় যে, আবেগ প্রকাশ করা দুর্বলতার লক্ষণ। “ছেলেরা কাঁদে না”—এই ধারণা তাদের আবেগ চেপে রাখতে শেখায়। অন্যদিকে রাগ বা খিটখিটে মেজাজকে সমাজ সহজেই মেনে নেয়। ফলে সমস্যাটি ধীরে ধীরে গভীরে গেঁড়ে বসে।
মুড সুইংয়ের পেছনে একক কোনও কারণ কাজ করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনিয়মিত বা অপর্যাপ্ত ঘুম, শৈশবের খারাপ অভিজ্ঞতা, জেনেটিক প্রভাব, মদ্যপান বা অন্যান্য নেশা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম—এসব বিষয় মিলেই মনের এই ওঠানামা তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘুমের অভাব মুডের উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না।
তবে সব মুড সুইং চিন্তার কারণ নয়। হালকা ওঠানামা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এটি ঘন ঘন ঘটে, তীব্র হয়ে ওঠে, কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কাজের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেকেই এটিকে নিজের স্বভাব ভেবে চুপ থাকেন—এটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
স্ট্রেসও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ যত বাড়ে, মস্তিষ্ক তত বেশি চাপে থাকে, ফলে মুড অস্থির হয়ে ওঠে। আবার অনেকে স্ট্রেস কমানোর জন্য মদ বা নেশার দিকে ঝোঁকেন, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—পুরুষদের অনেকেই সাহায্য নিতে পিছিয়ে পড়েন। সামাজিক চাপ, লজ্জা, কিংবা বিচার হওয়ার ভয় তাদের চুপ থাকতে বাধ্য করে। তারা মনে করেন, এসব বিষয় নিজেকেই সামলাতে হবে। কিন্তু এতে সমস্যা আরও গভীর হতে পারে।
তবে কিছু ছোট পরিবর্তন এই পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, প্রতিদিন কিছুটা শরীরচর্চা, স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা, নেশা এড়িয়ে চলা—এসব অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কার্যকর। পাশাপাশি নিজের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলা এবং প্রয়োজনে মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, একটি বিষয় পরিষ্কার—মানসিক স্বাস্থ্যের কোনও লিঙ্গ নেই। পুরুষদের মুড সুইং হয়, এটি স্বীকার করা এবং এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু করাই হতে পারে সুস্থতার প্রথম পদক্ষেপ।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
ঢাকা/লিপি
আজ রাতে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী