গরম বাড়লে কেন মাইগ্রেন বাড়ে?
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশনসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথাও তীব্র হয়ে ওঠে। রোগীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরম ও রোদের প্রভাব মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে, ফলে মাথাব্যথার প্রকোপ বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা বলেন, মাইগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুবিক রোগ। এতে বারবার মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার মাথাব্যথা হয়, যা সাধারণত মাথার একপাশে ধকধক করে এবং ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এটির সঙ্গে সাধারণত কিছু উপসর্গ দেখা যায়, যেমন—বমি বমি ভাব, বমি, আলো সহ্য করতে না পারা (ফটোফোবিয়া) এবং শব্দ সহ্য করতে না পারা (ফোনোফোবিয়া)। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রে ‘অরা’ নামে পরিচিত সাময়িক স্নায়বিক লক্ষণ দেখা যায়। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আগে বা পরে মেজাজ পরিবর্তন, ক্লান্তি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
কেন গরমে মাইগ্রেন বাড়ে?
অনেকের জন্য গরমকাল মানেই মাইগ্রেনের আক্রমণ বৃদ্ধি। বিশেষ করে আগস্টের প্রচণ্ড গরম এবং স্কুল খোলার সময়সূচির পরিবর্তন—এই দুইটি বিষয় একসঙ্গে মিলে সমস্যা বাড়ায়। অতিরিক্ত গরম এবং দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তন—দুটিই মাইগ্রেনের প্রধান ট্রিগার হিসেবে পরিচিত।
গরম কেন মাইগ্রেন ট্রিগার করে?
ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা): গরমে শরীরের পানি কমে যায়, ফলে রক্তের পরিমাণ কমে গিয়ে মাথাব্যথা হতে পারে।
তীব্র রোদ ও আলো: চোখে চাপ সৃষ্টি করে এবং মাইগ্রেনের সংবেদনশীল পথ সক্রিয় করে।
স্ট্রেস বৃদ্ধি: অতিরিক্ত গরমে অস্বস্তি থেকে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা মাইগ্রেনের একটি পরিচিত কারণ।
প্রতিরোধের সহজ উপায়
ঠান্ডা থাকুন ও পানি পান করুন: সারাদিন নিয়মিত পানি পান করুন। এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান বা কুলিং তোয়ালে ব্যবহার করুন। হালকা রঙের ঢিলা কাপড় পরুন এবং রোদে বের হলে টুপি ব্যবহার করুন।
ধীরে ধীরে নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হোন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস করুন
সকালের নাস্তা বাদ না দেওয়া নিশ্চিত করুন।
পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করুন: বাইরে সানগ্লাস ব্যবহার করুন, ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত আলো কমাতে পর্দা ব্যবহার করুন এবং স্ক্রিন ব্যবহারে ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন।
ট্রিগার শনাক্ত করুন: একটি ‘মাইগ্রেন ডায়েরি’ রাখুন এবং আবহাওয়া, খাবার, রুটিন পরিবর্তন—সব নোট করুন।
আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন: প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের কাছে রাখুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোতে আগাম সতর্ক থাকুন
সব সতর্কতা মেনে চলার পরও যদি মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতা থাকলে গরমের সময় এবং রুটিন পরিবর্তনের মাঝেও মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র: ডব্লিউএমসি হেলথ
ঢাকা/লিপি
মানিকগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত ২