দেশে-দেশে ফিরে আসছে হাম, কারণ কী?
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
হাম রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে আবারও হাম রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৬৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাপী এই হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচির ব্যাঘাত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রায় সব দেশেই নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। ফলে বহু শিশু নির্ধারিত সময় ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে—হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। এই টিকার ঘাটতি এখন বড় আকারে প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশেও একই সমস্যা দেখা গেছে। ২০২০ সালের পর নিয়মিত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। পাশাপাশি টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এসব কারণে এখন সরকার নতুন করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে, যেখানে ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘শুধু টিকার ঘাটতিই নয়, আরও কয়েকটি কারণ এই পরিস্থিতিকে ত্বরান্বিত করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো টিকাবিরোধী প্রচারণা, যা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু উন্নত দেশে বেড়েছে। এর ফলে অনেক অভিভাবক শিশুদের টিকা দিতে অনাগ্রহী হচ্ছেন, যা সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।’’
এ ছাড়া কোভিড মহামারির সময় স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য কার্যক্রম, যেমন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, ঠিকমতো পরিচালিত হয়নি। এতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যা হামকে আরও মারাত্মক করে তুলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসের নতুন ধরন (ভ্যারিয়েন্ট) তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এখনো টিকা এড়িয়ে যেতে সক্ষম নতুন ভ্যারিয়েন্টের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টিকাদানের ঘাটতির কারণে ২০২৩ সালে ৫৭টি দেশে বড় ধরনের হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
যদিও ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টিকাদানের কারণে হাম রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল, সাম্প্রতিক এই ফিরে আসা সেই অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকার ঘাটতি পূরণ করা না গেলে এবং সচেতনতা না বাড়ালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
ঢাকা/লিপি